Apan Desh | আপন দেশ

পরবর্তী সরকারের হাতে যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:২৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পরবর্তী সরকারের হাতে যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি

আশিক চৌধুরী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার চুক্তির খসড়া দিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। তবে সরকারকে দেয়া এক চিঠিতে তারা  ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট রিভিউ করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে। ফলে অন্তবর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর নিয়ে চুক্ত সম্পন্ন হচ্ছে না।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আশিক চৌধুরী।

আশিক চৌধুরী জানান, আজকে ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে তারা ড্রাফট কনসেশন এগ্রিমেন্ট রিভিউ করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে। যেহেতু ওনারা আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছে, তাহলে মোস্ট পসিবলি আমাদের হাতে আর দুটি কার্যদিবস বাকি আছে। ওনারা যেহেতু সময় চেয়েছেন, আমি আমি ধরে নিচ্ছি, যেটা প্রবাবিলিটি আছে—এটা এ সরকার আমল পার হয়ে, ইলেকশন পার হয়ে সামনে গিয়ে হয়তো নেগোসিয়েশনটাকে কনটিনিউ করবে।

আশিক চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, এ সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এ প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে।

এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব জায়গায় পণ্য খালাস, পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এ আহবান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়