Apan Desh | আপন দেশ

হাদী হত্যা

স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র বিক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৯:১৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র বিক্রেতা

ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেফতার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এর আগে ১৫ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামি মাজেদুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

এসময় তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। বিচারক সে আবেদন মঞ্জুর করে জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্তে জানা গেছে, হাদী হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

২০১৭ সালে আমদানি করা এ পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের ‘এম আইচ আর্মস কোং’ থেকে চকবাজারের ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’-এর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানি’র কাছে বিক্রি হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল। তার লাইসেন্স নম্বর ৪৫/৪৮। লাইসেন্সটি আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। ২০০০ সালে তা নিজের নামে নেন তিনি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করা থাকলেও পরে আর নবায়ন করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’ থেকে অস্ত্রটি কেনেন হেলাল। পরে তার কাছ থেকেই অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের হাতে যায়।

আরও পড়ুন <<>> বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত

এ আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানি’র মালিক।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন ওসমান হাদী। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদীর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়