ছবি : আপন দেশ
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের সময়ে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ মামলার রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে, এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে রায় প্রস্তুত না থাকায় সেদিন তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নতুন করে নির্ধারণ করে।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।
এ ঘটনায় তদন্ত শেষে গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রসিকিউশনের কাছে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন<<>>হাসিনাসহ ২৮৬ জনের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা শুনানি শুরু
মামলার অপর চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গ্রেফতার আসামিদের উপস্থিতিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা শাহারিয়ার খান পলাশ।
টানা ২৩ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ১০ ডিসেম্বর। এরপর ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৪ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এ মামলায় প্রমাণ হিসেবে প্রসিকিউশন ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বইসহ আরও ১১টি নথি এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ জব্দ তালিকায় সংযুক্ত করে আদালতে দাখিল করেছে।
যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আট আসামির সবার জন্য সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। অন্যদিকে, আনা অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে আসামিপক্ষ তাদের সবাইকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানায়। এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ভবিষ্যৎ।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































