ছবি : সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জনে।
এখনো নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার মানুষ; ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ।নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। উদ্ধারকারীরা এখনও বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, বন্যার এক সপ্তাহ পরও উদ্ধারকারী দল বৃষ্টি ও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। নেপালের ভোতেকোশি নদীর পথে থাকা সুড়ঙ্গ এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২২ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় দেশটির কয়েকটি শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও ৪ হাজার ৮৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী চিতওয়ান জেলা থেকে ৩৪৮টি, নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ২১৮টি, নওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ২০৮টি এবং নুয়াকোট থেকে ১৫৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া রাসুয়া থেকে ১২৭টি, গোরখা থেকে ৬৯টি, ধাদিং থেকে ৬০টি এবং তানাহুন থেকে ৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার ও স্থলপথে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে প্রায় ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে নেপালের সীমান্তের কাছে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় চীনের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ বলেছেন, নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সঙ্গে হিমালয়ে কয়েক দশক ধরে চলে আসা একটি উন্নয়নধারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই উন্নয়নধারায় ধরে নেয়া হয়েছে, ইচ্ছেমতো নদী ও পাহাড়ের গতিপথ বদলে দেয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন : ইসরায়েলকে রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিএসই) মহাপরিচালক সুনিতা নারায়ণ বলেন, হিমালয়ে একের পর এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আজ আমরা প্রকৃতির প্রতিশোধ দেখতে পাচ্ছি’।
মোবিয়াস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অষ্টম আন্তর্জাতিক টেকসই শিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএসই জানিয়েছে, ভারতে এখন প্রায় প্রতিদিনই একটি করে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটছে। সুনিতা নারায়ণ বলেন, ‘প্রকৃতি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে, আমরা এতদিন যেভাবে উন্নয়ন করে এসেছি, ভবিষ্যতে সেই পদ্ধতি আর কাজ করবে না।’
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































