Apan Desh | আপন দেশ

অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র , যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ৫ আগস্ট ২০২৬

অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র , যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কা

ফাইল ছবি, আপন দেশ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় অর্ধেক কমেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত এখন  বিপজ্জনকভাবে কম পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক দুই ধরনের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় দুই হাজার ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব। 

আরও পড়ুন<<>>দুবাইয়ে ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণ

যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে থাডের মজুত প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। থাডের এত বড় ঘাটতির তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

মার্কিন অস্ত্রের এ ঘাটতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে এসব দেশের অনেকেই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এসব দেশের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা একাধিকবার অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

গত সপ্তাহে ইরানে নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে কী ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়েও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরা হয়। উপসাগরীয় মিত্ররাও ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা জানায়।

এসব বিষয় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে হামলার জন্য চূড়ান্ত অনুমতিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প হামলা থেকে সরে আসেন। এসব দেশ ইরানের পাল্টা হামলা এবং বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতের আশঙ্কা জানিয়েছিল। তবে ট্রাম্প ভবিষ্যতে হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি।

তবে অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে প্রয়োজন মনে করবেন, সেখানে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলিও দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement