ছবি : আপন দেশ
ওয়ান হেলথকে নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। জরুরি পরিস্থিতিতে কেবল প্রতিক্রিয়া জানানো নয়, ঝুঁকি আগাম শনাক্তকরণ, প্রশমন ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা ও টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে জোর দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালীর রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্লেনারি হলে এক অধিবেশনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রতিবেশ ও পরিবেশ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে সৃষ্ট ঝুঁকি দ্রুত অন্য ক্ষেত্রগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্য ও জীবিকা ব্যবস্থা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল স্বাস্থ্য খাতের কর্মসূচি নয়। এটি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, খাদ্যনিরাপত্তা, সহনশীল জীবিকা ও টেকসই উন্নয়নকে একসূত্রে যুক্ত করার সমন্বিত পদ্ধতি।
বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামোর ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামো ২০২৫–২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা ও ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন<<>>বিরোধীদলের বক্তব্যে শেখ হাসিনার আওয়াজ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তুতি কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। পরিবর্তনশীল ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা প্রয়োজন। এ জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আগাম সতর্ক ব্যবস্থা, জৈব নিরাপত্তা, পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা এবং রোগের উদ্ভবের পরিবেশগত, প্রতিবেশগত ও আর্থসামাজিক কারণ সম্পর্কে গভীরতর ধারণা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জলবায়ু সহনশীলতাকে স্বাস্থ্য সহনশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে ওয়ান হেলথ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জরুরি পরিস্থিতির ঝুঁকি জাতীয় সীমা অতিক্রম করছে। কার্যকর প্রস্তুতির জন্য সমগ্র সরকারভিত্তিক সমন্বয়, বহুখাতীয় সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব অপরিহার্য।
এফএওসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন মন্ত্রী। মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিকে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা, টেকসই জীবিকা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার আহবান জানান। তিনি দেশনির্ভর সমাধান, জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং বৈশ্বিক জ্ঞানকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করার ওপর জোর দেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































