Apan Desh | আপন দেশ

জাতিসংঘে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের কড়া সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:৫৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের কড়া সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তার শেষ ভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণে তিনি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত, গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ, জলবায়ু সংকট এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে তিনি ভাষণ দেন। আল জাজিরার এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে দেয়া এ ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, কেবল সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ক্ষমতার ওপর অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যেভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা তার মহাসচিব মেয়াদে দেখা অন্য যেকোনো সংঘাতের চেয়ে ভয়াবহ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা, সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ শান্তির পথ ধ্বংস করে দিচ্ছে। সেখানে জাতিগত নিধনের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গাজায় জাতিসংঘের কর্মী ও মানবিক সহায়তা পরিচালনায় সব বাধা দূর করার তাগিদ দেন তিনি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলাকে অত্যন্ত বর্বর হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, এ আগ্রাসন জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কাঠামোর বৈষম্য তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকা অন্যায্য ও চরমভাবে অসমর্থনযোগ্য। বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার এ ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন <<>> জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু সংকটকে দুই প্রজন্মের মধ্যকার ক্ষমতার মারাত্মক বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করে বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেন জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রধান পাঁচটি পশ্চিমা তেল কোম্পানি বায়ুমণ্ডলকে একটি খোলা নর্দমার মতো ব্যবহার করে প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা পকেটে পুরেছে। অথচ জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাপ খাইয়ে নেয়ার তহবিলে এসেছে সামান্য অর্থ।

বিশ্বের পাওয়ার স্ট্রাকচার বদলে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুতেরেস।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর নিজের মেয়াদের শেষ ১০০ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পদে থাকা বা না থাকার ওপর নীতি-আদর্শ নির্ভর করে না। মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবীয় মর্যাদার পক্ষে তার লড়াই সবসময় অব্যাহত থাকবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়