ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইরান। এমন উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে মাইন বিস্ফোরণে দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
জাহাজ দুটির মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভুল নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হয়ে ট্যাঙ্কার দুটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের মাইনক্ষেত্র দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেখানে মাইন বা নৌ-বোমার আঘাতে জাহাজ দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
তবে জাহাজ দুটির নাম, মালিকানা বা নাবিকদের হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি ইরানে এই এলিট বাহিনীটি।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, উক্ত মাইনক্ষেত্রে প্রবেশের আগে ট্যাঙ্কার দুটিকে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। তারা নাবিকদের নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে আমেরিকার ছড়ানো বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহবান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
হরমুজ প্রণালিকে ‘অত্যন্ত অনিরাপদ’ আখ্যা দিয়ে এ ঘটনার পর আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সার রফতানির কোনো জাহাজকে এ পথ দিয়ে যেতে দেয়া হবে না।
এদিকে মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ করার পরই এই মাইনে বিস্ফোরণের ঘটনাটি সামনে এলো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতভর যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাগুলো মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামরিক ড্রোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রর ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় তীব্র উত্তেজনা চলছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে, যার বিপরীতে ইরানও হরমুজ প্রণালীতে তাদের উপকূলীয় রুট বাদে অন্য কোনো রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































