Apan Desh | আপন দেশ

‘জুলাই সদন নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৫:১৯, ১৭ জুলাই ২০২৬

‘জুলাই সদন নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’

ছবি : আপন দেশ

জুলাই সদন নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আজকে অনেকগুলো কথা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছি। আমাদের বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে।

তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়, জনগণেকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সমস্ত দল আমরা আন্দোলন করেছি, একসঙ্গেই তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি।  জুলাই সনদে প্রতিটি অক্ষর আমরা বারবার করে বলছি যে আমরাই বাস্তবায়িত করব। এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সে গণভোটের একটা অংশে তো আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা বারবার করে যে কথা বলতে চাচ্ছি যে, আমরা  উচ্চকক্ষে অনুপাতিক হারে ভোটে যে প্রতিনিধিত্ব হবে, সেই বিষয়টাতে  আমরা কখনোই একমত হইনি এবং সে সময়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি নিজেই যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সে সংস্কার কমিশন-রিফর্ম কমিশন তারা যে কথাগুলো সেদিন যেভাবে নিয়ে এসছেন আমাদের কনসেন্ট ছাড়া তারা নিয়ে আসছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে যে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এ কথা বলে এসেছি এবং উই আর কমিটেড। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড ঠিক তেমনিভাবে আমরা কমিটেড হচ্ছি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে আমরা বলছি। এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না। 

‘সংস্কার বিএনপিই এনেছে’

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের কথা বলে। সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে, প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম গভমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ গভমেন্ট বিএনপি নিয়ে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান, সে বিধান আমরাই পার্লামেন্টে সারারাত কাজ করে আমরা পাশ করেছি। আজকে  যখন এ সমস্ত কথাগুলো বলা হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হয়।

তিনি বলেন, এখন বিরোধী যারা আছেন তারা অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে আপনি উত্তেজিত করবার চেষ্টা করছেন। জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি, জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সে সিদ্ধান্তটা সবচেয়ে ভালো নেবেন যে, আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?

‘আমরা সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন চাই’

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন যে কথাগুলো নিয়ে তাদের কথা.. সংবিধান সংস্কার আর সংবিধান সংশোধন।  আমরা তো বরাবরই বলে এসছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই । আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ আমাদেরকে যে ভোট দিয়েছে, ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল সে ম্যানিফেস্টোতে আমরা টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচয় দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং যে জায়গায় কোনো রকমের বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।

‘শুধুমাত্র ক্ষমতায় যেতে ওরা জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চায়’

মির্জা ফখরুল বলেন , আমি মনে করি, বিরোধীদল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ জুলাইকে (জুলাই সনদ) তারা ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা বারবার করে বলে আসছি, যে জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু সে জুলাই মাসে আন্দোলন নয়, জুলাইয়ের আন্দোলন কিন্তুআমরা দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, প্রায় ১৮/১৯ বছর ধরে যে লড়াই হয়েছে সে লড়াইয়ের ফলশ্রুতি হচ্ছে আমাদের এ ২৪-এর জুলাইয়ের আন্দোলন। সে ফলশ্রুতিতে আমরা এসেছি।

‘জুলাই আন্দোলন বিএনপি সবচেয়ে বেশি ত্যাগ’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যা হয়েছে এ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং, এ কথাগুলো বারবার করে আমাদের বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা লিবারাল ডেমোক্রেসির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সে  লিবারেল ডেমোক্রেসির পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমার প্রায় একটা কথা মনে হয় যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? ডেমোক্রেসি থাকতে আমাদের প্রবলেমটা কোথায়? আমরা ডেমোক্রেসিতে থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি। আমরা সবাই মিলে যেভাবে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪ শে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই মিলে আমরা এটাকে যদি সে জায়গায় নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আমাদের সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

আরও পড়ুন : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথ আয়োজনে। অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আবু ল কাশেম হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল বক্তব্য রাখেন।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়