ছবি: সংগৃহীত
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। রোদের তীব্রতা এতটাই বেশি মানুষকে শীতল রাখতে পানি ছিটাচ্ছে দমকল বাহিনী। এদিকে শুধু ফ্রান্সেই গরমে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
অতিরিক্ত মৃত্যুর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন শেষকৃত্য সেবাদাতারাও। হিমঘরে জায়গা না থাকায় অনেকের অনুরোধ ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারা।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। হিরোস স্কয়ারে পথচারী ও পর্যটকদের ওপর ছিটানো হচ্ছে ঠান্ডা পানি।
রোমানিয়ার ব্রাশভ ও রাজধানী বুখারেস্টেও তাপমাত্রা থেকে বাঁচতে মানুষ ভিড় করছেন সুইমিংপুল, ফোয়ারা ও ছায়াঘেরা স্থানে। একই চিত্র দেখা গেছে আলবেনিয়ার সমুদ্রসৈকত এবং সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডেও।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স। তীব্র গরমে মাত্র কয়েকদিনেই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, মরদেহ সংরক্ষণে হিমাগারেও আর জায়গা নেই। শেষকৃত্য সেবাদাতারা বলছেন, পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম ও পুলিশ থেকে আসা অসংখ্য অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে তাদের।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরে তা আবারও বাড়তে পারে। জার্মানিতেও প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নাজেহাল রাজধানী বার্লিনের বাসিন্দারা। দেশটির অধিকাংশ আবাসিক ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতরই অসহনীয় গরমে কষ্ট পাচ্ছেন মানুষ।
আরও পড়ুন <<>> ফের অস্থির তেলের বাজার, বাড়ছে দাম
এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থার মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ ছিল ‘টানা এবং ব্যতিক্রমী সমুদ্র উষ্ণতার’ একটি সময়। সামনের দিনগুলোতে এ তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
বুধবার (০১ জুলাই) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস’ জানিয়েছে, জুনে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৯.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রেকর্ড করা হয়েছে। যা ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের একই মাসের আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ইইউ-এর সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস বৈশ্বিক মহাসাগরের একটি বড় অংশজুড়ে ক্রমাগত উচ্চ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং ব্যাপক সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ দ্বারা চিহ্নিত ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’-এর পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন ধাপের সূচনা নির্দেশ করতে পারে, যা আমাদের আবারও এক অজানা পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































