আফগানিস্তান তালেবানরা তালাক বাতিল করছে। নারীদের সাবেক স্বামীর কাছে ফিরতে বাধ্য করছে । বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে সোমবার (০৬ মার্চ) এমন তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
দেশটির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তালেবান সদস্যরা তালাক বাতিল করে দেয়ায় বেশ কয়েকজন নারীকে আবার তাদের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আফগানিস্তানে তালাক নির্যাতনের অপরাধের চেয়েও অধিক ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়।
বছরের পর বছর ধরে স্বামীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মারওয়া (ছদ্মনাম)। স্বামীর নির্যাতনে সবগুলো দাঁত ভেঙে গেছে তার। এই নারীর মতে, স্বামীর সঙ্গে তালাক হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। কিন্তু তালেবান সদস্যরা সেই তালাক বাতিল করে দিয়েছে। ফলে ভয়ে ৮ সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন এই নারী।
মারওয়া আফগানিস্তানের সেই নারীদের একজন যার তালাকের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে তালেবান দেশটির ক্ষমতায় এলে তার স্বামী দাবি করেন যে, তাকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। ফলে তালেবান সদস্যরা মারওয়াকে স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
মারওয়া বলেন, ‘স্বামী আমার মাথার চুল এত জোরে টানতেন যে, আমি আংশিক টাক হয়ে গিয়েছিলাম। তার মারধরে আমার সব দাঁত ভেঙে যায়। আমার বাচ্চারা এখন বলে- মা, আমরা যদি অনাহারেও থাকি তাতেও সমস্যা নেই। অন্তত এই অমানবিক নির্যাতন থেকে তো মুক্তি পেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ইসলামের কঠোর ব্যাখ্যা মেনে চলে এবং নারীদের জন্য তারা অতি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাকে ‘লিঙ্গ-ভিত্তিক বর্ণবাদ’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































