স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
সারা দেশে আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ (প্রথম রাউন্ড) অনুষ্ঠিত হবে। একদিনের এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে দেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে এটি বর্তমানে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সাল থেকে কর্মসূচিটি পুনরায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
ড. মুহিত বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শুধু রাতকানা রোগ প্রতিরোধই করে না, বরং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জেরোফথ্যালমিয়া, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এ কারণে বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ২২৮ জন শিশুকে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
আরও পড়ুন<<>>‘গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিসেফের সহায়তায় ৪০ লাখ নীল রঙের এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে। এরইমধ্যে এসব ক্যাপসুল দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সারাদেশে ১ লাখ ১০ হাজার স্থায়ী (ফিক্সড) কেন্দ্র এবং ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। মোবাইল কেন্দ্রগুলো লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত হবে।
ড. মুহিত বলেন, দেশের ১২ জেলার ৫৮টি উপজেলার ১৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডকে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি বলেন, ০৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি জন্মের পরপরই নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানো, প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ প্রদান এবং ছয় মাস বয়সের পর ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মসূচির উদ্বোধন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
আপন দেশ/জেডআই




































