Apan Desh | আপন দেশ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার (০৪ মে) ভোটের ফলাফল প্রকাশের পুরো পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা চলছে। এ পর্যন্ত চলমান সহিংসতায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন বিজেপি কর্মী ও দু’জন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যেই এসব হত্যার ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল অভিযুক্তরা। এছাড়া সহিংসতা থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রাজ্য পুলিশের ২ সদস্য ও তিন বিএসএফ জওয়ান।

সোমবার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রথম হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেদিন কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। 

স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে জানা যায়, মৃতের নাম যাদব বর (৪৮)। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। পরে তাকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) ২৪ পরগনা জেলার নিউটাউনে বিজেপির বিজয় মিছিলে হামলা চালিয়ে আরও এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিউ টাউন থানা এলাকার বালিগুটিতে মঙ্গলবার বিকেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আরও পড়ুন <<>> শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীও। কলকাতার বেলেঘাটায় ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন একটি ফোন আসার পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। মঙ্গলবার বাড়ির সামনেই তার রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার হয়।

এছাড়া বীরভূম জেলার নানুর সন্তোষপুরে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আবির শেখ (৪৫) নামের ওই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তাকে রাস্তায় একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তার দলের অন্তত ৩০০-৪০০ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড়শ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সহিংসতা প্রতিরোধে কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। বিজেপি ভয় আউট ভরসা ইন স্লোগান দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিজেপি তাদের ভরসার মডেল দেখিয়ে দিল।

তবে বিজেপি এসবের দায় স্বীকার করেনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, সহিংসতা ও ভাঙচুরে তাদের কোনও কর্মী জড়িত নন। বিজেপির পতাকা নিয়ে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা নিজেদের কার্যালয়ে  আক্রমণ করে, তার দায়ে বিজেপি নেবে না। নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিদায়ী রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিকে সহিংসতা রুখতে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোথাও ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর মহাপরিচালককে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রস্তুত থাকতে বলেছেন জেলা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়