Apan Desh | আপন দেশ

শর্তের জালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:০২, ৬ মে ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৯, ৬ মে ২০২৬

শর্তের জালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ

ছবি: আপন দেশ

মালয়েশিয়ার দেয়া শর্ত না মানলে আগের মতোই বন্ধ থাকবে বাংলাদেশিদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার। এমনটাই জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

বুধবার (০৬ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, এখনকার বাস্তবতা মালয়েশিয়ার মার্কেট বন্ধ আছে। আপনারা এটাকে ‘সিন্ডিকেট’ বলবেন না ‘ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম’ বলবেন—যাই বলেন, তাদের কন্ডিশনে যদি আমরা একমত না হই, তবে মার্কেট বন্ধই থাকবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার যে শর্ত দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমাদের মন্ত্রী কিছু আগে মিটিং করেছেন। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, তোমাদের কন্ডিশনে যে ৪২৩টি লাইসেন্স আমরা এখানে দিয়েছি, সবার জন্য ওপেন করে দাও। কারণ ওই কন্ডিশনেই তারা পাস করেছে। এইটা নিয়ে এখনও আমাদের দেনদরবার চলছে। জানি না এটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব।

তিনি আরও বলেন, আসিফ নজরুল ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন মালয়েশিয়ায় যেন সিন্ডিকেট না হয়। উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হয়েছে, কিন্তু মার্কেট ওপেন হয় নাই। মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল। ওই শর্ত মানলে ৫-৭টি প্রতিষ্ঠানের বেশি তালিকায় আসত না। তখন অন্তর্বর্তী সরকার চিঠি চালাচালি করে ৬টি শর্তে রাজি করানোর চেষ্টা করে। সে ৫-৭টি শর্ত মেনে কোয়ালিফাই করে এমন ২৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, ন্যূনতম ক্রাইটেরিয়া মিলিয়ে ৪২৩টি লাইসেন্স আছে। আমরা মনে করতে পারি ৪৫০-৫০০ লাইসেন্স সেবা দেয়ার জন্য কোয়ালিফায়েড। বাকিগুলো আসলে ডিসকোয়ালিফায়েড। অনেকে একজনের নামে ২-৩টি লাইসেন্স নিয়ে রেখেছে। আমার ধারণা, এ ৪২৩টির বাইরে যারা আছে, তাদের মধ্যে কিছু লাইসেন্স স্ক্যাম কিংবা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত।

​দেশের জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ ওভার পপুলেটেড। কর্মসংস্থান না করতে পারলে দেশে বা বিদেশে নৈরাজ্য তৈরি হবে। তাই আমরা স্কিলড ম্যানপাওয়ার (দক্ষ জনশক্তি) পাঠানোর প্রায়োরিটি দিচ্ছি।

আরও পড়ুন <<>> সব জেলায় ফোকাল পারসন নিয়োগের সুপারিশ

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০৪টি টিটিসির সবগুলোতে সমান সুযোগ-সুবিধা নেই। ৫৮টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ চললেও প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্টের অভাব রয়েছে। এ জন্য আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হবে।

সেবার মান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দুই মাসে অনেকের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়তো আসেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি।

​ওকাপ চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বিলস’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং ওকাপ নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়