ছবি সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাজ্যের গেরুয়া ভক্তদের অতি উৎসাহ, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, দখল করা থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
রাজ্যের সাবেক উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের নিজের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটাতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় দখল করে গেরুয়া রঙ করে দেয়া, ভাঙচুর করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
কলকাতায় মমতা ব্যানার্জীর ভাইয়ের স্ত্রীকে দেখে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়া, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর বাড়ি সামনে গিয়েও বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা জয় শ্রী রাম স্লোগান দিয়েছে। কলকাতার কসবায় দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন<<>>ইরানের হুমকিতে হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের
যদিও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মিলে কড়া হাতে অশান্তি থামানোর চেষ্টা করছেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে হামলা, অশান্তি পাকানোর অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রেখেছেন মমতা ব্যানার্জী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
মমতা ব্যানার্জীর দাবি, আমরা যখন জিতেছিলাম আমি বলেছিলাম কারো ওপর যেন অত্যাচার না হয়। বদলা নয় বদল চাই। আমরা সিপিএমের একটাও পার্টি অফিসে হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি। আমি রবীন্দ্র সংগীত এবং নজরুল গীতি গাইতে দিয়েছিলাম। আর বিজেপি ভোটে জয়ের পর থেকেই অত্যাচার শুরু করেছে।
তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অসভ্যতামি করে বা কর্দয ভাষা ব্যবহার করে, অথবা দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা কেউ টোটো-অটো ইউনিয়ন থেকে অর্থ আদায় করে বা এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের রেয়াত করা হবে না। পার্টি আমাকে এটুকু অধিকার দিয়েছে যে তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে। প্রশাসনকে বলবো এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































