ছবি: সংগৃহীত
তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ দিনের সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় সামরিক হামলার মুখে পড়তে হতে পারে দেশটিকে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ইরানে যে কোনো ধরনের মার্কিন হামলাকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
সম্প্রতি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ল্যাভরভ স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর ফলে বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার ঠিক একদিন পরই ল্যাভরভের এই মন্তব্য সামনে এল। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি স্থাপনাগুলোতে অতীতেও হামলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রাশিয়ার এ শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, এ পুরো বিষয়টিই একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আরও পড়ুন<<>>গ্রিসে রোজার মধ্যেই ৬০ মসজিদ বন্ধের ঘোষণা
সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ কেবল সামরিক উত্তেজনাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি রাজনীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই রুশ জ্বালানি কোম্পানি 'লুকঅয়েল' ও 'রোসনেফট'-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এছাড়া ভারতকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দেয়া এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে রাশিয়া, চীন ও ইরানকে নিষিদ্ধ করার মতো মার্কিন সিদ্ধান্তগুলোকে তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার থেকে রাশিয়াকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
ল্যাভরভ আক্ষেপ করে বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের সমাধান হলে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলছে, অন্যদিকে তারা একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানছে। তার মতে, ওয়াশিংটনের এ দ্বিমুখী নীতি এবং ইরানের প্রতি আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































