ছবি: সংগৃহীত
ইরানে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। দেশটির সব প্রদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংর্ঘষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তেহরানের অভিযোগ সহিংস এ বিক্ষোভের পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর এমনটি দাবি করেছেন। খবর প্রেস টিভির। স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর এ দাবি করেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ দুই দেশ বা তাদের মিত্রদের হিসাবে কোনো ভুল হলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।
এদিকে আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনে তাদের কাছে শান্তি-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি সংক্রান্ত প্রায় চার লাখ অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন<<>>ইরানে ২৪০০’র বেশি নিহত, দাবি মার্কিন সংস্থার
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের একটি শহরে দাঙ্গাকারীদের পাশাপাশি আর্থিক, অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তাকারীদের আগাম শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দাঙ্গায় সহায়তাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নয়টি প্রদেশে রাস্তায় সংঘর্ষ উসকে দিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিবিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকায় দুটি সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোর আগেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত একটি দলের মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩১ জনকে শনাক্ত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে জানায়, জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টায় শত্রুদের মূল লক্ষ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলেও তারা বিভিন্নভাবে ইরানের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। যেমন আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের বিরুদ্ধে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যয় চাপিয়ে দেয়া এবং অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের জন্য আর্থিক ও গোয়েন্দা সহায়তা অব্যাহত রাখা। তাই এ বিষয়ে ইরানি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে আইআরজিসি।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































