Apan Desh | আপন দেশ

ইবির বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল

ইবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:১৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইবির বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল

মুবাশ্বির আমিন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের মাদক সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে জুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। তবে, সে ছবিকে 'অভিনয়' বলছেন অভিযুক্ত নেতা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র মাদক দ্রব্যটি ইয়াবা অথবা ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেট হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ইবির এ বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের ছবি শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ। এতে দেখা যায়, ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুবাশ্বির আমিন মুখে সিগারেট জাতীয় একটি মাদক সেবনের দ্রব্য, হাতে একটি লাইটার এবং অপর হাতে একটি কাগজ ধরে আছেন। অনেকেই এটিকে ইয়াবা সেবনের ছবি বলে অভিযোগ করেছেন।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের এক এজেন্ট সমন্বয়ক মুবাশ্বির। ও আমার ইনবক্সে মেরে ফেলা হুমকি দেয়। ওর বাপ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মুবাশ্বির তুই তোর বাপের কাছে আমার নাম বলিস যেয়ে, তার ও কোনো বাপ থাকলে শৈলকূপার সীমানায় এসে হুমকি দিতে। তুই বেচে থাকিস ১৭৫ একরে তোর আসায় লাগবে বাপসহ তোর কৈফিয়ত আমি মেইন গেইট মুরালের সামনে বসে নিবো। তোর দিয়ে জাস্ট ট্রেলার দিলাম। সকল অন্যায়ের বিচার হবে ১৭৫ একরে ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন<<>>শিক্ষকদের ঘরে ফেরার আহবান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এ নেতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো সংগঠনের একজন নেতার এহেন কর্মকাণ্ডের লজ্জিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে, তার সঙ্গেই ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, ছবিটি ২০২৩ সালের শেষ সময়ের যখন আমি সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম এবং শহীদ জিয়া হলের এক বড় ভাইয়ের রুমে গেছিলাম। ওটা ছিলো র‍্যাগিং কালচার। এটা ইয়াবা বা এ জাতীয় কোন দ্রব্য না, এটা ছিলো অভিনয়। অভিনয়ের সে ছবিকে ব্যবহার করেই মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর মাধ্যমে একটি পক্ষ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আগেও আমাকে এসব ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে, আমি এতদিন সময় পাইনি, সামনে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিব। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট; আমি কখনো এসবের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।

এ ব্যাপারে ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক এস এম সুইট বলেন, এ ব্যাপারে আমি এখনো অবগত না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেও এধরণের কাজে জড়িত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। একে খাটো করে দেখার কিছু নেই। আমরা এমন কাওকে কখনো আশ্রয় প্রশ্রয় দেবো না। তবে অভিযোগটি প্রমাণিত হতে হবে, উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে মাদক বা নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের বা এধরণের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়