ছবি: আপন দেশ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভর্তুকির চাপ সামলাতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। এতে কাঁচাবাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছিল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তবে সরকারের তৎপরতায় নিত্যপণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। উল্টো কাঁচামরিচের দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা বেশি থাকায় বাজারে সবজির চাহিদাও বাড়ে। এর সঙ্গে পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
ক্রেতারা বলছেন, এমনিতেই সব জিনিসের দাম বেশি। এর মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চাইলে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিষয়টি সরকারের কঠোরভাবে নজরদারি করা উচিত।
এদিন সকালে রাজধানীর কমলাপুর কাঁচা বাজারে দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগের মতোই বেশি দামে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আবার কমেছে। আর লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ঝিঙা ১২০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সিমের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, ফুলকপির আকারভেদে দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতারা জানান, এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন<<>>মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি
মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার উপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে।
মাছ বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানগুলোতে চাহিদা অনুসারে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। মুগদা বাজারে গিয়ে অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, কোনোটিতে দুই লিটারের বোতল নেই।
বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার যতটুকু সরবরাহ আছে, তারও সব বিক্রেতারা প্রকাশ্যে রাখছেন না। অনেকে আড়ালে রাখছেন।
চলতি বছরের শুরুতেই ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ–সংকট শুরু হয়েছিল। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। গত জুলাই মাসের দিকে আবার সরবরাহে সংকট দেখা যায়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর ৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা। এখন আবার তেলের সরবরাহ–সংকট তৈরি হলো। অর্থাৎ এ নিয়ে চলতি বছর তিন দফায় বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট তৈরি হলো।
দেশে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়াতে চায়। এ নিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































