কমল সরকার ও নির্মল কৃষ্ণ সরকার। ফাইল ছবি
রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সভা-মিছিল সংগঠিত করাসহ বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের আর্থিক সহায়তা এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাতেও তিনি ভূমিকা রাখছেন। রাজধানীর একাধিক স্পটে গোপন বৈঠক করেছেন তিনি।
নির্মলের সহোদর কমল সরকারকে ঘিরে জমি দখল, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সওজের প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ১ দশমিক ৭১ একর সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগে কমল নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলমান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আলোচিত জমিটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন ডেমরার সাইনবোর্ড এলাকার ডগাইর মৌজায় অবস্থিত।
রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ
দীর্ঘদিন ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন নির্মল কৃষ্ণ সরকার। সরকার পতনের পরও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভারতে চলে যাওয়া নেতাকর্মীদের দেশত্যাগে সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তার অভিযোগও রয়েছে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে।

ট্রাভেল ব্যবসা ও জমির কারবার
নির্মল ও কমলের বিরুদ্ধে ট্রাভেল ব্যবসার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেয়া এবং শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তারা জমি কেনাবেচা ও মধ্যস্থতার সঙ্গেও জড়িত। বিরোধপূর্ণ সরকারি জমির মালিকানা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে কমল কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিশ্রুত কাজ না হওয়া বা টাকা ফেরত না দেয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের বিরোধ ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি নিয়ে মামলা
অভিযোগ অনুযায়ী, ডগাইর মৌজায় সওজের ১ দশমিক ৭১ একর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা বা দখলের সঙ্গে কমল নেতৃত্বাধীন চক্র জড়িত। জমিটির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। সরকারি সম্পত্তির মালিকানা, দলিল, দখল ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নির্ধারণে দুদকের তদন্ত, আদালতের নথি এবং জমির মালিকানা পরিবর্তনের ইতিহাস পর্যালোচনা জরুরি।
হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ
দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে নেয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
জানা যায়, তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। সেখানে তাদের বিপুল সম্পদ রয়েছে।
মন্দিরের অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার
ডেমরার পাড়াডগাইর শ্মশান মন্দিরের সভাপতি থাকাকালে নির্মলের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ ও বিগ্রহের স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ নিয়ে সালিস এবং তাকে মন্দির থেকে বের করে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থ ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধে নির্মল ও কমলের মধ্যেও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একপর্যায়ে তারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
নাশকতা ঠেকাতে তদন্ত জরুরি
নির্মল ও কমলকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগ, সরকারি সম্পত্তি দখল, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তারা সওজের জমির দুদক মামলা, দলিল, আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ এবং সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের দাবি করেছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি
এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমল সরকারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































