Apan Desh | আপন দেশ

সচল কারখানা টিকিয়ে রাখার আহবান এফবিসিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সচল কারখানা টিকিয়ে রাখার আহবান এফবিসিসিআইয়ের

ছবি : আপন দেশ

বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকদের জন্য এক নম্বর সমস্যা হলো জ্বালানি সংকট। এ সংকটের কারণে সচল কলকারখানা ‘আইসিইউ’ বা মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডা‌স্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

তিনি বলেন, বন্ধ কারখানা চালুর চেয়ে বর্তমানে সচল থাকা কারখানাগুলো যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। 

বুধবার (০২ সে‌প্টেম্বর) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও সিপিডি আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

রফতানির সাফল্যের আড়ালে ‘কষ্টের গল্প’

রফতানি খাতে সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, আগস্ট মাসের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রফতানি আয় বৃদ্ধি পাওয়া একটি বিশাল সাফল্য। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে উদ্যোক্তাদের বিপুল আর্থিক ত্যাগের গল্প। গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি খরচে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রেখেছেন। সময়মতো শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের এ বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

আরও পড়ুন <<>> নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

জ্বালানি সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব

জ্বালানি সমস্যা সমাধানে ফজলুল হক সরকারকে একটি জরুরি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করা প্রয়োজন। এর ফলে বিদ্যুতের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমবে হবে। সাশ্রয়কৃত গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার কাছে লিখিত প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন। 

বিনিয়োগ কৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে আগামী ২-৩ বছরের জন্য বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

ফজলুল হক বলেন, যেসব খাতে জ্বালানি নির্ভরতা কম, যেমন—আইটি খাত, সোলার প্রজেক্ট এবং অবকাঠামো নির্মাণ, সেসব ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন পথরেখা বা স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করা উচিত। তেল-গ্যাস আহরণের ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের ওপর তিনি জোর দেন। 

মূল্যস্ফীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ফজলুল হক বলেন, শুধু ব্যাংকের সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

তার মতে, অর্থনীতির অনেক তাত্ত্বিক ফর্মুলা বাংলাদেশে কার্যকর হয় না। কারণ এখানে বাজার ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার মতো বাস্তব সমস্যাগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী।

কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারগুলোতে অবৈধ দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের জন্য পণ্যের দাম কমানো চ্যালেঞ্জিং হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আহবান

বিগত সরকারগুলোর দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি পরিকল্পনার অভাবকে বর্তমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করে ফজলুল হক বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর শুধু ‘ফায়ার ফাইটিং’ বা সাময়িকভাবে সমস্যা সমাধান না করে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপন‌ দেশ/মিম/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়