ছবি : আপন দেশ
দেশে বিনিয়োগ না বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। এ মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন।
তিনি বলেছেন, বিনিয়োগের নিম্নমুখী ধারা ইতিমধ্যে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও সিপিডি আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত এক দশক দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে স্থবির হয়ে আছে। ২০২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ২২ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিনিয়োগের এ দুর্বল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহেও।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও (এফডিআই) কমেছে বলে জানান ফাহমিদা খাতুন। তার দাবি, ২০২৬ অর্থবছরে এফডিআই প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।
একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির হারও কমেছে। এসব সূচক দেশে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের দুর্বল অবস্থাকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট বড় বাধা
বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত হওয়ার পেছনে জ্বালানি সংকটকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না।
এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর সঙ্গে সুশাসনের ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে।
উচ্চ সুদের হার, দুর্বল অবকাঠামো ও দুর্নীতির কারণেও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। বর্তমানে নীতিসুদ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়ায় ঋণের ব্যয় উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সংকুচিত শিল্প উৎপাদন
বিনিয়োগের স্থবিরতার প্রভাব শিল্প উৎপাদনেও পড়ছে। ফাহমিদা খাতুনের দেয়া তথ্যে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শিল্পের উৎপাদন শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
সতর্ক করে তিনি বলেন, বিনিয়োগের এ মন্দাভাব অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় আরও চাপে পড়বে। নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণ না হলে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে না। বিদ্যমান কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতিতে গভীর সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার সুপারিশ করেন।
আরও পড়ুন: আরেক দফা কমলো স্বর্ণের দাম
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির টেকসই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব নয়।
আপনদেশ/মিম/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































