Apan Desh | আপন দেশ

চলতি বছর সৌদি বীমা খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৪ মে ২০২৬

চলতি বছর সৌদি বীমা খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

ছবি সংগৃহীত

চলতি বছরে সৌদি আরবের বীমা খাত দ্রুত সম্প্রসারণ হয়ে দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগে যেখানে অর্থনীতি মূলত তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন সেখানে ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন খাতগুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অর্থনীতির আকার এখন প্রায় ১.২ থেকে ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩৬ থেকে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। এর বড় অংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য, লাইফ ও মোটর বীমার চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

দেশটির অর্থনীতি এখনো অনেকটা তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে ফাইন্যান্স, বীমা, পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতও দ্রুত এগোচ্ছে। সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বীমা খাত এখন দেশের অ-তেল অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে বড় অবদান রাখছে।

২০২৬ সালে সৌদি আরবের বীমা খাতের মোট প্রিমিয়াম প্রায় ৭৬ থেকে ৮০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। এটি দেশের মোট অর্থনীতির প্রায় ২% থেকে ২.৫% এর সমান। এ হার এখনো উন্নত দেশের তুলনায় কম, তবে দ্রুত বাড়ছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বীমা কোম্পানি কাজ করছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তাওউনিয়া, বুপা অ্যারাবিয়া এবং আল রাজহি তাকাফুল। এই বড় কোম্পানিগুলো বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও পড়ুন<<>> আজ স্বর্ণের দাম বাড়লো নাকি কমলো? 

বীমা খাতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ ক্লেইম খরচ। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমায় অনেক ক্ষেত্রে ৭০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত টাকা ক্লেইম হিসেবে দিতে হয়। এতে কোম্পানিগুলোর লাভ কমে যায়।

তবে ভালো দিক হলো, মানুষের মধ্যে বীমার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এখন দেশের প্রায় ৭০% থেকে ৮০% মানুষ কোনো না কোনো বীমার আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

সৌদি বীমা খাত আন্তর্জাতিকভাবেও শক্তিশালী। বুপা, অ্যালিয়াঞ্জ এবং মিউনিখ রে-এর মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ খাতে সহযোগিতা করছে। তারা প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ খাত আরও বড় হবে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, ভালো সেবা এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বীমা কোম্পানিগুলো আরও এগিয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে সৌদি আরবের বীমা খাত একটি দ্রুত-বর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়