Apan Desh | আপন দেশ

নারী-শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে মাদকের বিস্তার

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী-শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে মাদকের বিস্তার

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের পূরনো চিত্রে ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছে নতুন বাস্তবতা। ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, চোলাই মদ, বিয়ার ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। 

এখন সে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, স্ক্রাফ সিরাফ ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন। নামে বেনামে কিছু অবৈধ ফার্মেসী থেকে এসকল ঔষধ ক্রয় করে মাদক সেবন ও সরবরাহের ধরন পরিবর্তনে যুক্ত হয়েছে নতুন ঝুঁকি।

থানা পুলিশের অভিযানে কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, চোলাই মদ, বিয়ার, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার হলেও সেবন ও সরবরাহের ধরন পরিবর্তনে তৈরি হয়েছে নতুন ঝুঁকি। উপজেলার বিস্তীর্ণ সীমান্তের শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী পূর্ব পাশ্বে রয়েছে নরসিংদীর পলাশ, উত্তরে কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলার আংশিক সীমান্ত।

দক্ষিনে নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ, দক্ষিন-পশ্চিমে রাজধানী ঢাকার পূর্বাচল শহর এবং পশ্চিমে টঙ্গি ও গাজীপুর সদর উপজেলার অবস্থান। এসকল এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা এসব মাদক কেবল সীমান্ত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিভিন্ন হাত বদলের মাধ্যমে প্রবেশ করছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৭ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশের হাতে রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকার মহাখালী আমতলা থেকে তিতুমীর কলেজগামী সড়কের ফুটপাত থেকে ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কলাপাটুয়া গ্রামের ছিদ্দিক মোল্লার পূত্র জয়নাল আবেদীন ওরফে মিন্টু কে (৪৭) গ্রেফতার করে। 

মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু নিজ এলাকায় বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। চলতি মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিশেষ অভিযানে কালীগঞ্জ হতে ৫০ পিছ ইয়াবা ও মোটর সাইকেলসহ এক জনকে আটক করে। 

আরও পড়ুন<<>>ইয়াবাসহ গ্রেফতার, ৩ মাসের কারাদণ্ড

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমান করে, শহরের গন্ডি পেরিয়ে মাদক বিভিন্ন হাত বদল হয়ে সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকের এই নতুন বিস্তারে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে পড়েছে কিশোর ও তরুণরা। অতিসম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাজের সকল স্তরে মাদক ছড়িয়ে পড়ায় উক্ত সমাবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।

অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানায়, স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকে আসক্তির প্রবণতা বাড়ছে। 

অভিযোগ রয়েছে মাদক কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকরা নিজেদের আড়ালে রেখে শিক্ষার্থী, ব্যাটারী চালিত অটোরিকসার অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের ও কিছু নারীদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। শুরুতে যারা সেবনকারী ছিল তাদেরই পরবর্তী সময়ে মাদক বহন, পৌছে দেয়া এবং নতুন সেবনকারী সংগ্রহের কাজে লাগানো হচ্ছে। ফলে মূল হোতারা অধরাই রয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয় সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে শুধু বাহক বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নেপথ্যের অর্থদাতা, মূল সরবরাহকারী, ডিলার ও সিন্ডিকেটদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী।

গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক মিঠুন মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, মাদক প্রবেশের পথগুলো আইশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। নারী ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করার বিষয়টি সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। 

মাদকের বিস্তার প্রতিরোধে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের আচরণে কোন পরিবর্তন হলে দ্রুত শনাক্ত করতে শিক্ষকরা সক্ষম। শিক্ষার্থীদের ভয় না দেখিয়ে সচেতনতা, মোটিভেশনাল কাউন্সিলিং বা শ্রেনী কক্ষে মাদকের প্রভাব নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।    

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়