ছবি: আপন দেশ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে নোঙর করা ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’-তে প্রথাগত ধাত্রীদের অংশগ্রহণে সাত দিনব্যাপী ধাত্রী প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২৫ জন ধাত্রী অংশগ্রহন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদী সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান করা হয়েছে। ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট ‘জীবন তরী’ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন।
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে, মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমিয়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রথাগত ধাত্রীরা অংশ গ্রহন করেন। ট্রেইনার মোসা. জাহানারা বেগম ধাত্রীদের প্রশিক্ষণে নিরাপদ প্রসব পরিচালনার কৌশল শেখান। গর্ভাবস্থায় ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্তকরণ, প্রসবকালীন স্বাস্থ্যবিধি, নবজাতকের তাৎক্ষণিক পরিচর্যা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও প্রসবকালীন খিচুনি, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রসূতিকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রেরণ করতে হয়। এছাড়া নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যা, সংক্রমণ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মাসে ভাসমান হাসপাতালে প্রায় ৫০ হাজার ২৫৮ জন রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে। বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের রোগীর সংখ্যা ১৩৭৪ জন। তার মাঝে চোখের অপারেশন ১২০১ জন, টনসিল অপারেশন ১৬৫ জন এবং মুগুর পা বা (Clubfoot) অপারেশন আট জন রোগীকে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। কানের পর্দা ফাটা ৬ জন রোগীকে এপর্যন্ত সম্পূর্ন বিনামূল্যে অপারেশন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়ছেন পর্যটকরা
ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবন তরীর প্রশাসক এ.কে.এম সহিদুল হক বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই প্রথাগত ধাত্রীদের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই প্রশিক্ষনের আয়োজন। জীবন তরী ভাসমান হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্ননে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নদী তীরবর্তী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ধাত্রী প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ধাত্রী প্রশিক্ষণ কর্মশালা উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম কামরুল ইসলাম নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ভাসমান হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক, ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবন তরীর প্রশাসক এ কেএম সহিদুল হক, ফাইনেন্স এন্ড এডমিন মো. তারিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুর রহিম, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইনামুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জনস্বাস্থ প্রকৌশলী আবুল হোসেন আকাশ, তথ্য কর্মকর্তা সোহা তামান্না ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দসহ প্রমুখ।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































