ফাইল ছবি, আপন দেশ
যশোরের কেশবপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হালিমা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে ওঠেছে। এ সময় তার কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটে নেয়া হয়েছে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনার সঙ্গে জাড়িত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাদী হয়ে ‘বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, যশোর’-এ নালিশী মামলাটি দায়ের করেন। যাহার নং-না: শি: - ৯৯/২৬।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী এস এম কামরান হোসেন। মামলার আসামিরা হলেন—কেশবপুর থানার কালিয়ারই গ্রামের মৃত বদর উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে মো. মশিয়ার রহমান (৪২), তবিবর রহমান (৫৫), রবিউল ইসলাম (৩০) এবং মকবুল পাহাড়ের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫)।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার (১২ মে) বাদীর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মশিয়ার রহমান তাদের বসত ঘরে ঢুকে প্রথমবার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ইজিবাইকে করে বাদীকে খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবহনে করে ঢাকার এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে তাকে বিয়ে না করেই একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
আরও পড়ুন<<>>নাফ নদী থেকে ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকায় অবস্থানকালে আসামিরা বাদীর কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে গত ২৯ মে ১নং আসামি মশিয়ার রহমান বাদীকে ঢাকা থেকে এনে যশোর শহরে ২নং আসামি তবিবর রহমানের ভাড়াটিয়া বাসায় রাখেন। সেখানে বাদী নিজের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানালে, আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। ৩১ মে বাদী কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।
ভুক্তভোগী নারী প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়। মামলায় স্থানীয় ৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আদালতের নিকট বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে জেলহাজতে প্রেরণপূর্বক সুবিচারের প্রার্থনা করেছেন। বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কেশবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বিবাদী মো. মশিয়ার রহমানের (৪২)নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব ঘটনা মিথ্যা।
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































