ছবি: আপন দেশ
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের অনেক এলাকার সবজি ক্ষেত ডুবে ফসল পচে গেছে-এ অজুহাতে ঊর্ধ্বমুখী রাজধানীর কাঁচাবাজার। সরবরাহ ঘাটতির দোহাই দিয়ে গত দুই সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দু-তিনটি ছাড়া বাজারের বেশিরভাগ সবজির কেজি এখন ‘সেঞ্চুরি’পেরিয়ে গেছে। কাঁচামরিচের প্রতি কেজির দাম ঠেকেছে ৪০০ টাকায়। বেড়েছে ডিমের দামও। নিত্যপণ্যে এ ঊর্ধ্বগতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে তাদের।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান ঘুরে এমন চিত্র মিলেছে।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিনের লাগাতার টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত ও আড়তে কাঁচামাল পচে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সবজি তোলা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহও আসছে না। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নতুন মৌসুমি সবজি বাজারে স্বস্তি ফিরবে ।
ক্রেতাদের অভিযোগ কাঁচা মরিচের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বৃষ্টির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারে তদারকি জোরদার না করলে এভাবে এমন অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতেই থাকবে অসাধু চক্র।
বাজারে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোলাকৃতির কালো বেগুনের দাম উঠেছে ১৮০ টাকায় এবং সাদাটা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কোথাও কোথাও মানভেদে বেগুনের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দেখা গেছে। করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া কচুর লতির কেজি বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ধুন্দুল, ঝিঙ্গে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা।
বর্ষার বাজারে একটু স্বস্তি দিচ্ছে কেবল পেঁপে। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। পেঁপে ছাড়া অন্য সবজি সপ্তাহ দুয়েক আগেও ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে কেনা গেছে।
তবে সবচেয়ে বেশি দাম চড়েছে কাঁচামরিচের। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজার থেকে একসঙ্গে এক কেজি কিনলে খরচ হবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সপ্তাহদুয়েক আগেও মরিচের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।
আরও পড়ুন<<>>স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ, আজ থেকেই কার্যকর
এদিকে কয়েকদিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এখন বৃষ্টি ও বন্যার জেরে দাম বেড়েছে এক লাফে ২০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ঘুরে দেখা যায়, খুচরাতে প্রতি কেজি ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একটু মাঝারি মানের বা তুলনায় ছোট আকারের পেঁয়াজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা।
ডিম-মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়ে ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১৩০ এবং বাদামি রঙের ডিম ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হতো কিছুদিন আগেও। সেগুলো এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি হাঁকছেন বিক্রেতারা। একই অবস্থা তেলাপিয়া-পাঙ্গাস থেকে শুরু করে প্রায় সব মাছেরই। তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষের চিংড়ির কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজির ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ ও অদক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খলের কারণে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হচ্ছে এবং নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































