ছবি: আপন দেশ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় শিশুদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (০৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের হাটোর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তৈয়বুর রহমান মোল্লা (৭০) হাটোর গ্রামের মৃত দিনা মোল্লার ছেলে। পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৈয়ব আলী (৬২) ও তার ছেলে স্বাধীন (২২)-কে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুরে প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের ছেলে শাকিল (৮) পাশের বাড়ির জালাল হোসেনের গাছ থেকে কয়েকটি আম পাড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন শিশুটিকে শাসন ও মারধর করলে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
আরও পড়ুন<<>>দেশে ফিরেছে ভারতে আটক থাকা ৯১ জেলে
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বিরোধের জেরে সোমবার সকালে ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় মেহেরুন্নেছা (৫০), মেহেদী হাসান (২৮), আব্দুল মোমিন (২৬) ও শিশু রিয়ান (৮) আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলে বাড়ির পাশের পাকা সড়কে তাদের পথরোধ করে আবারও হামলা চালানো হয়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে বৃদ্ধ তৈয়বুর রহমান মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন বলেন, আহতদের হাসপাতালে নেয়ার সময় আবার হামলা হয়। তৈয়বুর চাচা ঝামেলা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী দাবি করেন, অভিযুক্তদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত করে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপন দেশ/এসআর
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































