Apan Desh | আপন দেশ

সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১১:৫১, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে

ডিএসই লোগো

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ২ দশমিক ৪৮। সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী প্রবণতায় বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন বেশি দেখা যায়। সূচক কমলেও একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে নেমে আসে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্ট। একইভাবে ডিএস-৩০ সূচক ৩৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে নেমেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টির, কমেছে ২০৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২টির। এছাড়া ২২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ার।

লেনদেনের দিক থেকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬৬৮ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৪৮ কোটি টাকা—অর্থাৎ প্রায় ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি।

আরও পড়ুন<<>>ন্যাশনাল ফীডের ক্যাটাগরি পরিবর্তন

খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত শীর্ষে ছিল, মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে। প্রকৌশল খাত ১২ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয়, বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় এবং একই হারে ব্যাংক খাত চতুর্থ অবস্থানে ছিল। সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে অধিকাংশ খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ দরপতন হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, মিউচুয়াল ফান্ড, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বস্ত্র খাতেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। 

অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই প্রবণতা দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৯৮৩ পয়েন্টে নেমেছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির দর বেড়েছে, ১৫২টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সপ্তাহজুড়ে বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং সূচক ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী থেকেছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি কিছুটা দরপতনের সুযোগে ক্রয়চাপ তৈরি হলেও তা স্থায়ী হয়নি।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়