Apan Desh | আপন দেশ

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস 

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ২৯ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১১:৩৮, ২৯ জুলাই ২০২৬

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস 

ছবি : আপন দেশ

আজ ২৯ জুলাই (বুধবার), বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর এদিন বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। বাংলাদেশে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। 

বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হলেও বাঘ টিকে আছে বিশ্বে এমন ১৩টি দেশে বাঘের ঘনত্ব বেশি থাকায় এসব দেশে গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। 

বনজ বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি হিসেবে বাঘ শুধু একটি প্রাণী নয়, পুরো বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের অন্যতম নিয়ামক। তবে বনাঞ্চলে নানা সংরক্ষণ কার্যক্রম চললেও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, চোরা শিকার, খাদ্য সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা কারণে এখনও হুমকির মুখে রয়েছে এ বিরল প্রাণী।

২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ১২ বছরের মধ্যেদ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। এরমধ্যে নেপাল বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। ভারত এবং ভুটানও দ্বিগুণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সে লক্ষ্য থেকে দূরে আছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে ৩৫০টি বাঘ ছিল। এরপর ১৯৮২ সালে জরিপে৪২৫টি ও এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানান।

আরও পড়ুন<<>>আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

২০০৪ সালে জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ৩৫০টি থেকে৪০০টি উল্লেখ করা হয়। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে। হঠাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতেএসে দাঁড়ালে সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়।

২০১৮ সালে সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা ১১৪ টি। কিন্তু পূর্ব সুন্দরবনে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২০২২সালের ২৮জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছরের ব্যবধানে ৪ টি বাঘের মৃত দেহ উদ্ধার করে বনবিভাগ।

সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে ৫৮টি। ৩০টির মৃত্যু হয়েছে বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতাজনিত কারণে। আর তিনটির মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। তিনি বলেন, একদিকে হরিণ শিকারিদের দাপট, অন্যদিকে বনদস্যুদের বনে অবাধ বিচরণ; দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে বাঘের আবাসস্থল। হরিণ শিকারের ফাঁদে কখনো কখনো বাঘ আটকা পড়ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি এক নাগরিক সংলাপে বলেন, সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। বনদস্যু দমনের পাশাপাশি হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শিকারিদের ফাঁদে আহত একটি বাঘকে চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করার ঘটনাও সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়