Apan Desh | আপন দেশ

২১ বছর পর টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ৯ জুন ২০২৬

আপডেট: ১০:২১, ১০ জুন ২০২৬

২১ বছর পর টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’

ছবি: আপন দেশ

দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ারকে হারাল বাংলাদেশ। কার্ডিফে ২০০৫ সালের মোহাম্মদ আশরাফুল-আফতাব আহমেদদের জাদুতে ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’করেছিল টাইগাররা। অবশেষে মিরপুরে ফুরোল দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পেয়েছে টাইগাররা।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ।

দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সর্বোচ্চ ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এছাড়া ৬৭ ও ৫৪ রান করে করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মাইটি অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত সফরকারীরা ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় বাংলাদেশ ডিএলমেথডে ৮৬ রানে জয় পায়।

এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

মোসাদ্দেক ৭০ বলে ৭টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তার বিধংসী ইনিংসের সুবাদে লড়াকু পুঁজি পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

এছাড়া ৮৬ বলে ৯টি চার আর এক ছক্কার সাহায্যে ৬৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৪ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় ৫৪ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাথান ইলস।  

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট। তিনি গোল্ডেন ডাক পারেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান কাটারমাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্রিকেটার লাবুশেন।

আরও পড়ুন <<>> অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৫ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

১০.১ ওভারে দলীয় ৫১ রানে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি নাহিদ রানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তার আগে ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ইনিংসের শুরু থেকে হাল ধরে রাখার চেষ্টা করেন কুপার কনোলি। তিনি দলীয় ৯১ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৫০ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান জমা করেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। তাদের কারণে একটা পর্যায়ে ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১২৮ রান। এরপর মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে ফেরেন ৫ ব্যাটসম্যান। ৬২ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রান করে ফেরেন অ্যালেক্স ক্যারি।  

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ চেষ্টা টুকু করে যান ক্যামেরন গ্রিন। 

তিনি ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন নাহিদ রান। ২টি করে উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়