ছবি : আপন দেশ
খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
চিঠিতে চারটি পদ্ধতি উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো একটি কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
এদিকে, বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বিমানবন্দরটি চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য শিল্প ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে শুরু হয় খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প। খুলনা নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ৯৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাটি ভরাটের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নতুন করে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৫ কোটি টাকা।
২০১৮ সালের আগস্টে ওই এলাকায় আরও ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই সময় পিপিপির আওতায় বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।
এরপর প্রতি বছরই বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে আসছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ উন্নয়নকর্মীরা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান গণমাধ্যমকে বলেন, যশোর বিমানবন্দরের ৭০ শতাংশ যাত্রী খুলনার। যশোর থেকে খুলনার যোগাযোগ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হওয়ায় এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সেটি এড়িয়ে চলেন। মোংলা বন্দর, ইপিজেড, হিমায়িত খাদ্য রফতানি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশে খুলনাতেই বিমানবন্দর প্রয়োজন।
আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, গত মাসে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে এলাকাটি পরিদর্শন করি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে বলি। গত ৩০ জুলাই তারা বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































