ইতালি জাতীয় ক্রিকেট দল
আন্তর্জাতিক ক্রিড়াঙ্গনে ইতালিকে সবাই ফুটবলের দেশ হিসেবে চিনে থাকে। যারা ‘আজ্জুরি’ নামে পরিচিত। ফিফার এ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। তবে গত দুই আসরে তারা কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবারও এখন অবধি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাধ্যমে ক্রিকেটের বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে ইতালির।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টস দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে ইতালির। এদিন টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবাগত দলটি।
এবারই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে ইতালি। মজার ব্যাপার হলো এ স্কটিশদেরই বাছাই পর্বে হারিয়ে ক্রিকেটে ‘মিরাকোলো ইতালিয়ানো (ইতালীয় অলৌকিক ঘটনা)’ ঘটিয়েছে ইতালি। মানুষ যখন দেখবে ইতালি ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে লড়াই করছে, তখন এটি তাদের মাঝে কৌতূহল ও বিশ্বাসের জন্ম দেবে। আমাদের লক্ষ্য ইতালির ক্রিকেট মানচিত্রে একটি উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া।
ইতালিয়ান দলটি বৈচিত্র্যে ভরা। ১৫ সদস্যের দলে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এমন কেউ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বংশোদ্ভূতদের নিয়ে গড়া এ ক্রিকেট দল। যাদের কেউ ছিলেন পিৎজা মেকার, কেউ উবারচালক, কেউ আবার ডেলিভারি বয়। কেউ বংশগত বা পূর্বপুরুষের সূত্রে কেউবা স্ত্রীর নাগরিকত্বে প্রভাবিত হয়ে ইতালিয়ান পাসপোর্ট নিয়েছেন। এ দলে থাকা জেজে স্মাটস কখনও ইতালিতেই যাননি! দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে জাতীয় দলে খেলার পর স্ত্রী ইতালিয়ান হওয়ায় সে দেশের পাসপোর্ট নিয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>বাংলাদেশের দাবি মানলে ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান
বছর সাঁইত্রিশের এ অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জানিয়েছেন আজ্জুরিদের জার্সি গায়ে তিনি যেসব ম্যাচ খেলেছেন, তার বেশির ভাগই আমিরাত বা ইউরোপের দেশে। যে কারণে ইতালিতে যাওয়া হয়নি তার। ব্যাটার জাসপ্রীত সিংয়ের জন্ম ভারতে হলেও বেড়ে ওঠা ইতালিতে। ক্রিকেট তার নেশা হলেও পেশায় তিনি উবারচালক। পাকিস্তানের জাইন আলিও ঠিক তেমনই– বেড়ে উঠেছেন ইতালিতেই। শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ক্রিশান কালুগামাগে ১৫ বছর বয়সে ইতালিতে পাড়ি জমান। পিৎজা মেকার ক্রিশান কাজের ফাঁকে ক্রিকেট খেলে থাকেন।
ইতালিয়ান দলটিতে পেশাদার ক্রিকেটারও রয়েছেন। ম্যাডসেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব ডার্বিশায়ারের হয়ে খেলে থাকেন। দলে থাকা দুই ভাই হ্যারি আর বেন মানেন্তি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ। আসলে তাদের দাদা ইতালিয়ান, তাই দ্বৈত পাসপোর্ট নিয়েছেন তারা। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় তারা একসঙ্গে হয়ে থাকেন। মূলত ইউরোপের বাছাই পর্বগুলো খেলে অভ্যস্ত তারা। দলটিতে আছেন কারখানার শ্রমিকও। যারা এই বিশ্বকাপে খেলার জন্য ছুটি নিয়ে ভারতে এসেছেন। ক্রিকেটবিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলা আমাদের জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের এ দলটি একটি পরিবারের মতো।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































