ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোন চুরি যাওয়া শুধু একটি দামি ডিভাইস হারানো নয়। ফোনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, যোগাযোগের তথ্য হারানো। এছাড়া অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ তো হারাতেই হয়।
এর সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ও জড়িত থাকে।
তাই ফোন হারানোর পর সেটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য যাতে অন্যের হাতে না যায়, সে প্রস্তুতিও আগে থেকেই রাখা জরুরি।
কিছু সহজ নিরাপত্তাব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখলে ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার পর ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব। জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিগুলো—
অনুমান করা কঠিন এমন লক ব্যবহার করুন: ফোনের স্ক্রিন লক আপনার তথ্যের প্রথম সুরক্ষা। তাই সহজে অনুমান করা যায় এমন পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত নয়।
জন্মতারিখ, ফোন নম্বরের শেষ কয়েকটি সংখ্যা, ১২৩৪ বা ০০০০-এর মতো সহজ সংখ্যা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ফোনে আঙুলের ছাপ বা মুখমণ্ডল শনাক্ত করে আনলকের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করুন। তবে বায়োমেট্রিক সুবিধার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড রাখাও জরুরি।
ফোনের তথ্যের কপি অন্য জায়গায় রাখুন: ফোন হারিয়ে গেলে নতুন ডিভাইস কেনা সম্ভব হলেও এর ভেতরের তথ্য সব সময় ফিরে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে পারিবারিক ছবি, প্রয়োজনীয় নথি, কনটাক্ট বা কাজের ফাইল হারিয়ে গেলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান হওয়ার দিন আজ
তাই নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণের কপি রাখার অভ্যাস করুন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল অ্যাকাউন্ট এবং আইফোনে আইক্লাউডের মতো সেবায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের আলাদা কপিও নিরাপদ কোনো জায়গায় রাখতে পারেন।
ফোন ফিরে পাওয়ার জন্য বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন: কেউ হারানো ফোন খুঁজে পেলে সেটি ফেরত দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে লক স্ক্রিনে একটি বিকল্প ফোন নম্বর বা সংক্ষিপ্ত বার্তা রাখা কাজে আসতে পারে।
তবে এ ধরনের তথ্য দেয়ার সময় সতর্ক থাকুন। ফোন ফেরত পাওয়ার জন্য যতটুকু তথ্য প্রয়োজন, শুধু ততটুকুই দিন। বাসার ঠিকানা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য লক স্ক্রিনে প্রকাশ না করাই নিরাপদ।
গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর আলাদা করে রাখুন: ফোন হারানোর পর সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হতে পারে প্রয়োজনীয় নম্বরগুলো হাতের কাছে না থাকা। তাই কিছু জরুরি নম্বর ফোনের কনটাক্ট লিস্টের বাইরে সংরক্ষণ করে রাখুন।
পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠজনের নম্বরের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক কিংবা কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের যোগাযোগের তথ্য আলাদা করে রাখা ভালো। এতে ফোন হারানোর পর দ্রুত সিম বন্ধ করা বা প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।
ফোন খুঁজে পাওয়ার সুবিধা আগে থেকেই চালু করুন: ফোন হারানোর পর সেটির অবস্থান জানা গেলে অনেক সময় ডিভাইসটি ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আর ফোন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে দূর থেকে সেটি লক করা বা প্রয়োজন হলে তথ্য মুছে দেয়ার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের ‘ফাইন্ড হাব’ এবং আইফোনে ‘ফাইন্ড মাই’ এ ধরনের কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর এসব সুবিধা চালু করা যায় না। তাই এখনই সেটিংস পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো সক্রিয় করে রাখুন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































