ফাইল ছবি
জুন মাসের শেষার্ধ মানেই বর্ষার দাপট। আকাশজুড়ে মেঘের দৌড়ঝাঁপ। কখনো টানা বৃষ্টি, কখনো আবার মেঘ সরে গিয়ে দেখা দেয় নির্মল আকাশ। আর সে ক্ষণিকের মেঘমুক্ত আকাশই আকাশপ্রেমীদের জন্য নিয়ে আসে কিছু দুর্দান্ত মহাজাগতিক দৃশ্য।
৩০ জুন পর্যন্ত সন্ধ্যা ও ভোরের আকাশে দেখা মিলবে গ্রহ ও চাঁদের আকর্ষণীয় অবস্থান। পাশাপাশি মধ্যরাতের আকাশে নজর কাড়বে গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজ বা সামার ট্রায়াঙ্গল।
জুনের শুরুতে শুক্র ও বৃহস্পতির যে মনোমুগ্ধকর অবস্থান আকাশপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়েছিল, মাসের শেষভাগে এসে তাদের দূরত্ব অনেকটাই বেড়ে যাবে।
৩০ জুনের মধ্যে শুক্র পশ্চিম আকাশে আরও উঁচুতে উঠে যাবে। এর উজ্জ্বলতা এতটাই বেশি থাকবে যে নগরীর আলোঝলমলে পরিবেশেও খালি চোখে সহজেই দেখা যাবে।
অন্যদিকে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি সূর্যের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় পশ্চিম দিগন্তের একেবারে নিচে অবস্থান করবে। ফলে জুনের শেষ সপ্তাহে সূর্যাস্তের পর অল্প সময়ের জন্য এটি দৃশ্যমান থাকবে। এরপর গোধূলির আলোয় ধীরে ধীরে আড়াল হয়ে যাবে।
এছাড়া মাসের প্রথমার্ধে তুলনামূলক উঁচুতে দেখা গেলেও ১৯ জুনের পর থেকে বুধ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করবে। মাসের শেষ দিকে সূর্যের তীব্র আলোয় এটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাবে।
জুনের শেষ সপ্তাহে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখা যাবে ভোরের আকাশে।
২৭ জুন শেষ রাতে, অর্থাৎ ভোর চারটার দিকে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে ক্ষীয়মাণ চাঁদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে বলয়ধারী গ্রহ শনি। টেলিস্কোপে শনির বলয় এবং চাঁদের অসংখ্য গর্ত একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা যাবে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য হবে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন<<>> হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
এর ঠিক দুই দিন পর, ২৯ জুন ভোরে পূর্ব দিগন্তের কাছে মঙ্গলের লালচে আভার পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে বাঁকা চাঁদ। সূর্যোদয়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে খালি চোখেই এই দুই জ্যোতিষ্কের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
জুনের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে মাথার ওপর এবং পূর্ব আকাশজুড়ে দেখা যাবে বিশাল এক কাল্পনিক ত্রিভুজ। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এটি ‘সামার ট্রায়াঙ্গল’ বা গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজ নামে পরিচিত।
তিনটি ভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জের তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিয়ে গঠিত এ ত্রিভুজের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের ভেগা। অন্য দুটি হলো অ্যাকুইলা নক্ষত্রপুঞ্জের আলটায়ার এবং সাইগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের ডেনেব।
ঢাকার আকাশ থেকেও এ তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সহজেই শনাক্ত করা যায়। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম ও বর্ষার পূর্ণ আগমনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এ নক্ষত্রবিন্যাস।
এছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে চাঁদ ধীরে ধীরে অমাবস্যার দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে মাসের শেষ দিনগুলোতে গভীর রাতের আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, যা আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
বর্ষাকালে নিয়মিত আকাশ দেখা কঠিন হলেও ভারী বৃষ্টির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বৃষ্টির পানি বাতাসের ধূলিকণা ধুয়ে নিয়ে যাওয়ায় আকাশ হয়ে ওঠে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য এমন সময়গুলো বছরের সেরা সুযোগগুলোর মধ্যে একটি। জুনের শেষ দিকে বৃহস্পতি ও মঙ্গল দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে। তাই এগুলো ভালোভাবে দেখতে উঁচু ভবনের ছাদ কিংবা খোলা জায়গা বেছে নেওয়া সবচেয়ে উপযোগী।
বর্ষার মেঘের ফাঁকে ফাঁকে তাই আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে মহাকাশের এক অনন্য আয়োজন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































