আইডিআরএ-র লোগো ও মীর নাদিয়া নিভিন
মীর নাদিয়া নিভিনকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন ) এ বিষয়ে আইডিআরএর পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ওই পদে দায়িত্ব পালনে বয়স সীমা প্রত্যাহার করেছে বর্তমান সরকার। নিভিনকে নিয়োগের পর থেকেই বিমা খাতে তার অনভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কী বিবেচনায় তাকে নিয়োগ দেয়া হলো? আর্থিকখাতে এ নিয়োগে দেশীয় কোনো মহল নাকি বিদেশী কোনো প্রভাব আছে সে উত্তরও খুঁজছে সংশ্লিষ্টরা।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মীর নাদিয়া নিভিন। এর আগে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা সরকারের শাসনকালে অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। ওই সময় এটুআই প্রকল্পে পরিচালক ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনিই নিভিনকে প্রকল্পে সম্পৃক্ত করেন। ফলে ভিন্ন সময়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, আস্থা-বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তার পেশাগত অভিজ্ঞতার জায়গা নিয়ে। তার পড়াশুনার বিষয়ও ছিল না বিমা খাতের। কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেয়া নাদিয়া নিভিনের কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে। কিন্তু বিমা শিল্প, বিমা নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বা গ্রাহক সুরক্ষা-সংক্রান্ত খাতে দীর্ঘমেয়াদি কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না।

কুয়েতে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি মীর বংশের নাদিয়া নিভিন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অধীনে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আফগানিস্তান, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং মিয়ানমারে। এছাড়া একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, জার্মানি এবং নিউইয়র্কে ইউএনডিপির সদর দফতরে।শিক্ষাগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জন এফ. কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে মাস্টার্স অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যাক্রামেন্টো থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
সম্প্রতি ইংরেজি সাময়িকী দ্য প্রেসটিজ গ্লোবাল-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদিয়া নিভিন জানান, তার জন্ম কুয়েতে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে ইউএনডিপির অধীনে আফগানিস্তানে গিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন আয়োজনের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দায়িত্ব পালন করেন পাকিস্তানে। একই দায়িত্ব পালনে ২০১৮ সালে যান মালয়েশিয়ায়।
যদিও ২০২৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। সমালোচকদের মতে এত সীমিত সম্পৃক্ততা দেশের বিমা খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যথেষ্ট কি না- সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
নিভিন তার পারিবারিক পরিচয় বা বাবা-মার পরিচয় কোথাও প্রকাশ করেননি। তবে বিমাখাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেয়া সমিচিন। যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার সম্পর্কে খাত সংশ্লিষ্টরা কিছুই জানেন না।
বিমা বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মী বলেন, পরিচালনগত ও নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যাযয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচালনায় সুবিধা হয়। না থাকলে যে অসুবিধাটা হয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অন্যান্য জনবলের সঙ্গে তার দুরত্ব তৈরী হবে। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।
গত ২ মার্চ ২০২৬ আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে সাবেক সচিব আসলাম আলম পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য ছিল। এরপর ১৬ জুন নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মীর নাদিয়া নিভিনের নিয়োগ দেয়া হয়
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































