Apan Desh | আপন দেশ

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৭:৫৭, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়াল

তুরস্ক-সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার ( ৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ১০৪ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর মধ্যে তুরস্কে আনুষ্ঠানিকভাবে আট হাজার ৫৭৪ জন মারা যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ায় দুই হাজার ৫৩০ জন মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে। খবর সিএনএনের। 

তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ। আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি। অপরদিকে সিরিয়ায় খালিহাতেই চলছে উদ্ধারকাজ। ভূমিকম্পের পর তুরস্ক-সিরিয়ায় উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জরুরি চিকিৎসক দল পাঠানোর কথাও ভাবছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল সাত দশমিক আট। এর পর দফায় দফায় আরো কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে। এতে দুই দেশে ধসে পড়েছে হাজার হাজার ভবন। এসব ভবনের নিচে আটকা পড়েছে বহু মানুষ। তাদের উদ্ধারে চেষ্টা করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষ। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র ঠান্ডা, তুষারপাত ও বৃষ্টি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় ১০টি প্রদেশে তিন মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এই অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। মানুষও মারা গেছে বেশি।

জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রেসিডেন্ট এবং তার মন্ত্রিসভা এখন পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে নতুন আইন পাস করতে পারবে। জরুরি সব কাজ যেন দ্রুততার সঙ্গে হয় তা নিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

এদিকে ৭০টি দেশ ভূমিকম্পে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য আনতালিয়া পর্যটন কেন্দ্রে হোটেলগুলো খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এরদোয়ান।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, জরুরি অবস্থা তিনমাস জারি থাকবে। তার মানে আগামী ১৪ মে প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরুর আগে দিয়ে এই জরুরি অবস্থা শেষ হবে।

আপন দেশ ডটকম/

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়