Apan Desh | আপন দেশ

৫ আগস্টের পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:১২, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

৫ আগস্টের পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই: তারেক রহমান

ছবি : আপন দেশ

৫ আগস্টের পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ৫ আগস্টে আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।’

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

চেয়ারম্যান হিসেবে গত রাতে দায়িত্ব গ্রহনের পর তারেক রহমান প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য  দিয়ে। অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক,ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি সকলের সহযোগিতা কমনা করে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান।
সে প্ল্যানের  একটি অংশ দেশের অর্ধেক জনগণ নারীদের ঘিরে। প্রত্যেক নারীদের দেয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড। যে কার্ড পাবেন একজন নারী, গৃহিনী বা একজন হাউসওয়াইফ। তবে কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয় বরং ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেয়া হবে। এ ৫ থেকে ৭ বছরে তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করব। কার্ডটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো, নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে, এভারেজে প্রতি পরিবারে ৫জন সদস্য ধরলে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। সব পরিবারই এ কার্ড পাবেন।

সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহবান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস ঠিক রাখতে হবে, যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি।
আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস ও জবাবদিহিতা চালু রাখতে হবে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক বা লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা কন্টিনিউ করতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।

আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি 

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্যদের শুধু আমি আমার চিন্তাটা তুলে ধরতে চাই যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থানের পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে যে বিষয়গুলো যেটি একজন সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য।  আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে তিনটি পার্ট আছে। সাংবিধানিক পার্ট,আইনগত পার্ট এবং আরেকটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট।

আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতিদিনকার যে চাওয়া-পাওয়া, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ-আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সে বিষয়গুলো নিয়ে  প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। অবশ্যই এগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দা সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না-এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত। আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।

নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি 

তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব। 

আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই

তারেক বলেন, আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা পাই যেটা দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদেরকে সাহায্য করবে। শুধু সমালোচনা নয়, আপনাদের কাছ থেকে যেন এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সে প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।

আমরা ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাই না

তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একই সঙ্গে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু আমার একার জন্য নয়। যারা আমার দলের নেতাকর্মী,সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এ দুটি সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, ৫ই আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।

মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে না যায়

তারেক রহমান বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট।  আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করবো, দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে না রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা তা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।

 দেশে কী হয়েছে আমি জানি

তারেক বলেন,আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি। কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সঙ্গে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান(আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন , উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, উনার রক্ত মাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সঙ্গে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সঙ্গে কী হয়েছে যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন জেলের মধ্যে সেটিও আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লক্ষ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয় বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে তা আমি জানি। কাজেই এ ঘটনাগুলো যদি আমরা সবগুলোকে এক করি তাহলে যারা দেশে ছিলেন আপনারা অবশ্যই আমার থেকে একটু ভালো জানবেন। তবে আমি একদম যে জানি না, বিষয়টি তা নয়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আমার একটি ধারণা আছে।

আপন দেশ/এসআর

 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়