ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শুরু হচ্ছে। তবে উদ্বোধনী দিনে অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংসদসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা বাধ্যতামূলক। সে বিধান মেনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথম অধিবেশন আহবান করেছেন।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। তাদের উপস্থিতিতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ। ফলে প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরে সংসদীয় দলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রথম দিনে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখেই অধিবেশন শুরু হবে। প্রথমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হবে। এরপর সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। আরেকজন সদস্য সে প্রস্তাব সমর্থন করলে ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এরপর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। সংসদীয় সূত্র জানায়, জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন <<<>>> ভারতের কাছে জ্বালানি চেয়ে বাংলাদেশের চিঠি
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। আবার ৭২(৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল থাকবেন বলে গণ্য হবেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুজনের কেউ দায়িত্ব পালনের অবস্থায় না থাকায় কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন ড. কে এম মহিউদ্দিন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ বিলুপ্ত হলেও সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে বহাল থাকেন। নতুন সংসদে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত তাদের কার্যকাল থাকে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, আগের সরকারের পতনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুজনই দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব নিয়ে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
তার মতে, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একজন সদস্যকে প্রথম অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারের পর দেশে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































