Apan Desh | আপন দেশ

ঈমান-প্রজ্ঞা: বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির সমীকরণ

তারেক সালমান

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:০১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ঈমান-প্রজ্ঞা: বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির সমীকরণ

ছবি: এআই জেনারেট

‘ঈমান ইয়েমেনের, প্রজ্ঞাও ইয়েমেনের’- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এই বাণী ইসলামের ইতিহাসে ইয়েমেনের বিশেষ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অথচ সেই ইয়েমেন আজ দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয় এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপর্যস্ত। একসময় যে ভূখণ্ড আরবের বাণিজ্য, কৃষি ও প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, সেই দেশই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

ইয়েমেনকে ঘিরে সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি প্রশ্ন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা কীভাবে আঞ্চলিক সামরিক শক্তিতে পরিণত হলো? সৌদি আরবের মতো সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য তারা কেন বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ? আর লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ কেন বিশ্ব অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকে শুরু করে ইয়েমেনের আধুনিক রাষ্ট্রসংকট, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমুদ্রপথের কৌশলগত গুরুত্ব—সবকিছুর দিকে তাকাতে হবে।

রাসুলের বাণীতে ইয়েমেনের বিশেষ মর্যাদা

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ইয়েমেনের মানুষদের কোমল হৃদয় ও সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ঈমান ইয়েমেনের, প্রজ্ঞা ইয়েমেনের।’ হাদিসটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইয়েমেনিদের ধর্মীয় ও নৈতিক বৈশিষ্ট্যের বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৩৯০)

আরেকটি বর্ণনায় মহানবী (সা.) শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেছেন। সেখানে নজদের জন্যও দোয়া করার অনুরোধ এলে হাদিসে ফিতনা ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৭০৯৪)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। হাদিসে উল্লিখিত নজদের ভৌগোলিক পরিচয় ও আধুনিক সৌদি আরবের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ইসলামী ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এই বর্ণনাকে বর্তমান সৌদি আরবের কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রায় হিসেবে ব্যবহার করা ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিকভাবে সতর্কতার দাবি রাখে।

ইয়েমেনের প্রতি ইসলামের প্রাথমিক যুগের এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশটির দীর্ঘ সভ্যতাগত ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার ব্যবধানই আজকের সংকটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রাচীন বাণিজ্য থেকে আধুনিক ভূরাজনীতি

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ইয়েমেন প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্য ও সমুদ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করা সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশটি বহু শতাব্দী ধরে বণিক, নাবিক ও বিভিন্ন সভ্যতার যোগাযোগের ক্ষেত্র ছিল।

ইয়েমেনের এডেন বন্দরও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশটির পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরে যাতায়াত করা যায়।

ফলে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই নয়। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন, বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।

এই ভৌগোলিক বাস্তবতাই ইয়েমেনকে তার অর্থনৈতিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

হুতিদের উত্থান: ধর্মীয় আন্দোলন থেকে সামরিক-রাজনৈতিক শক্তি

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ‘হুতি’ নামে পরিচিত আন্দোলনটির আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। এর শিকড় উত্তর ইয়েমেনের জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনে। ১৯৯০-এর দশকে হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুতির সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণমূলক কর্মকাণ্ড থেকে আন্দোলনটির বিকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়।

দীর্ঘদিন ইয়েমেন শাসন করেন আলী আবদুল্লাহ সালেহ। ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তাঁর শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে আবদরাব্বুহ মানসুর হাদি ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার, ক্ষমতা ভাগাভাগি, অর্থনৈতিক সংকট এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর বিরোধের সমাধান হয়নি।

২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরের বছর হাদি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হাদি প্রশাসনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু সামরিক অভিযান দ্রুত কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আনতে পারেনি। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিবরণে ইয়েমেনের এই সংকটকে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। (কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস, Yemen’s Tragedy: War, Stalemate, and Suffering)

সৌদি আরবের নিরাপত্তা-উদ্বেগ কোথায়?

সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের সীমান্ত দীর্ঘ। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্তিশালী হয়ে ওঠা রিয়াদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি করে। হুতিদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। তবে হুতিদের সব সিদ্ধান্তকে সরাসরি তেহরানের নির্দেশের ফল হিসেবে দেখাও যথাযথ নয়; তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য, স্থানীয় সমর্থন এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইও রয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকা মানেই প্রতিটি ধরনের আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব- বাস্তবতা তা নয়।

আরও পড়ুন<তারেক সালমানের লেখা>  শামসুল হক: যে নেতার হাত ধরে জন্ম নেয় আ.লীগের রাজনৈতিক যাত্রা

২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে হামলা এই দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে। হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে প্রায় অর্ধেকে নেমে গিয়েছিল। বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়ে।

ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় সীমিত ব্যয়ের আকাশযান ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলাও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটাতে পারে। তবে হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং আক্রমণের প্রকৃত পরিচালনাকারী নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য ছিল।

ড্রোনের যুগে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর তুলনামূলক কম ব্যয়, দূরপাল্লায় চলার ক্ষমতা এবং প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরির সামর্থ্য। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সাধারণত বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি হলেও সস্তা ও সংখ্যায় বেশি আকাশযানের আক্রমণ প্রতিহত করা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে এই বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এখানে মূল বিষয় কেবল কোনো একটি ড্রোনের দাম নয়। বরং আক্রমণকারী ও প্রতিরক্ষাকারীর ব্যয়ের ব্যবধান, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক আক্রমণ পরিচালনার সামর্থ্য—সবকিছু মিলেই যুদ্ধের হিসাব বদলে দেয়।

এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের নিরাপত্তানীতি নতুন করে বিবেচনা করতে হচ্ছে। শুধু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিবর্তে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সৌদি-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ

ইয়েমেনের সংঘাতকে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখা হয়। সৌদি আরব চায় তার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এমন কোনো সশস্ত্র শক্তি প্রভাবশালী হয়ে না উঠুক, যারা নিয়মিত দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে হুতিরা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বাড়তি প্রভাব অর্জন করেছে।

তবে ইয়েমেনের সংকটকে শুধু দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ করলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা আড়াল হয়ে যায়। সেখানে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণের ঐতিহাসিক বিভাজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উপজাতীয় গোষ্ঠীর স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধ এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির অমীমাংসিত প্রশ্ন।

হুতিরা দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও ইয়েমেনের সব অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর ওপর তাদের সমান কর্তৃত্ব নেই। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক, দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি এবং অন্যান্য স্থানীয় গোষ্ঠীও দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো এক পক্ষের সামরিক সাফল্যকে পুরো ইয়েমেনের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা—দুটি লক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস ও আমাদের পরিচিতি

বাংলাদেশের সঙ্গে ইয়েমেনের সম্পর্কের আলোচনায় সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামও আসে। জনপ্রিয় ঐতিহ্যে তাঁকে ‘শাহজালাল ইয়েমেনি’ নামে অভিহিত করা হয়। তবে তাঁর জন্মস্থান ও জীবনের প্রাথমিক বিবরণ নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে। তাই ইয়েমেন থেকে তাঁর সিলেটে আগমনের প্রচলিত বর্ণনাকে সর্বসম্মতভাবে প্রমাণিত ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন না করে ঐতিহ্যগত বিশ্বাস হিসেবে উল্লেখ করাই যুক্তিযুক্ত।

এই সতর্কতা ইয়েমেনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করে না। বরং ইতিহাস, ধর্মীয় স্মৃতি এবং প্রামাণ্য তথ্যের পার্থক্য বজায় রাখলে অতীতকে আরও নির্ভরযোগ্যভাবে বোঝা যায়।

ইয়েমেনের সংকট কি শুধু ইয়েমেনের?

ইয়েমেনের সংকট আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। ভূগোল কোনো দেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে, কিন্তু সেই গুরুত্ব সব সময় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে না। কখনো তা দেশটিকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে ঠেলে দেয়।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান, জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং সৌদি আরব-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত এখন আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু এই সমীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সংঘাতে তাদের জীবন, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক শক্তির পাল্লা কার দিকে ভারী, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি তাই আরও জরুরি প্রশ্ন হলো-কবে ইয়েমেনের মানুষ নিরাপদ জীবন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে?

একসময় ঈমান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে যে ভূখণ্ডের নাম উচ্চারিত হতো, সেই ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণের ওপর নয়; নির্ভর করবে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।

লেখক: কলাম লেখক, সিনিয়র সাংবাদিক

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়