ছবি: এআই জেনারেট
ক্রেডিট কার্ড দেখতে একটি প্লাস্টিক কার্ড বা স্মার্টফোনে থাকা ভার্চুয়াল নম্বর মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের আর্থিক চুক্তি, মূল্য নির্ধারণের কাঠামো এবং পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যুক্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক শর্তাবলী ও দায়দায়িত্ব। প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের কিছু পরিভাষা পরিভাষা পরিবর্তন করে সেটিকে ‘ইসলামিক কার্ড’ বলার সুযোগ নাই। তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো-ইসলামী ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চুক্তি, আয়-ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, বিপণন, আদায় প্রক্রিয়া ও গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়সমূহে শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ করছে? নাকি কেবল নামসর্বস্ব ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের অন্তরালে প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা করছে?
এই প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘গাইডলাইনস অন ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশন্স অব ব্যাংকস’ জারি করেছে। এটি শুধু একটি নতুন ব্যাংকিং প্রোডাক্টের অনুমোদন বা পরিভাষা পরিবর্তনের নির্দেশিকা নয়; বরং ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চুক্তি, ফি, লেনদেন, প্রযুক্তি, গ্রাহক সুরক্ষা এবং শরিয়াহ গভর্ন্যান্স-সবকিছুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ।
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে সুদবিহীন ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড যেন ঋণগ্রস্ততার ওপর আয় করার মাধ্যম না হয়ে ওঠে, সেজন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় রিবা (সুদ), মায়সির (জুয়া) ও অতিরিক্ত গারার (অনিশ্চয়তা) পরিহারের পাশাপাশি নিষিদ্ধ হিয়াল (কৌশলী শরিয়াহ-পরিহার) এড়িয়ে চলা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং মাকাসিদ আল-শরিয়াহ বা শরিয়াহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী সম্পদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মূল কাঠামো হিসেবে কর্জে হাসানা ও উজরাহ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক যখন কার্ডধারীর কোনো লেনদেনের অর্থ পরিশোধ করে, তখন তা কর্জে হাসানা—অর্থাৎ সুদবিহীন ঋণ—হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহক পরে শুধু মূল অর্থ পরিশোধ করবেন। ব্যাংকের আয় হবে উজরাহ, অর্থাৎ প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে ফি থেকে।
এখানেই রয়েছে প্রচলিত সুদনির্ভর ক্রেডিট কার্ডের সাথে এর মৌলিক পার্থক্য। কোনো সেবার বিনিময়ে নেওয়া ফি যেন ঋণের ওপর সুদসদৃশ আয় হয়ে না যায়। তাই ফি বকেয়া অর্থের পরিমাণ, ক্রেডিট সীমা, বিলম্বিত পরিশোধের সময় বা পেমেন্ট ডেফারমেন্টের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং প্রচলিত সুদের হারের ভিত্তিতেও নির্ধারিত হতে পারবে না।
তিন ধরণের সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ
গাইডলাইনে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-এ-এর আওতায় রয়েছে এমন ফি, যা ঋণ প্রদানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এবং যাতে মুনাফা থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মার্চেন্ট-ফান্ডেড ডিসকাউন্ট, ইন্টারচেঞ্জ ও সুইচিং ইনকাম, অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডধারীরা ব্যাংকের মেশিন ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট ধরনের আয় এবং গ্রাহকের সম্মতিতে তাকাফুল ব্যবস্থাপনা থেকে পাওয়া কমিশন।
ক্যাটাগরি-বি-তে রয়েছে ঋণ-সংশ্লিষ্ট সেবা, যার বিপরীতে শুধু প্রকৃত সরাসরি খরচ বা প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয় পর্যন্ত আদায় করা যাবে; কোনো মুনাফা করা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে কার্ড ইস্যু, নবায়ন ও প্রতিস্থাপন, অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ, নগদ উত্তোলন, ক্রেডিট সীমা বৃদ্ধি, কিস্তি নির্ধারণ, ইস্যুকারী ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা রূপান্তর এবং নির্দিষ্ট বাহ্যিক আদায় বা আইনগত ব্যয়।
আরও পড়ুন<> মোঃ খায়রুল হাসান লেখা <> বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং: সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও করণীয়
ক্যাটাগরি-সি-তে রয়েছে নিষিদ্ধ চার্জ। যেমন-যে চার্জ বকেয়া অর্থের পরিমাণ, ক্রেডিট সীমা, বিলম্বিত পরিশোধের সময় বা পেমেন্ট ডেফারমেন্টের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, কিংবা যেসব ব্যয় প্রকৃত সরাসরি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য নয়। নীতিটি সহজ: কোনো সেবার নাম পরিবর্তন করে ঋণের ওপর সুদসদৃশ আয় তৈরি করা যাবে না।
প্রকৃত ব্যয় ও বিলম্বিত পরিশোধ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের সাথে সম্পৃক্ত প্রকৃত সরাসরি ব্যয়ের মধ্যে থাকবে প্রকৃত তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পাদনকারী কর্মীদের সরাসরি শ্রম ব্যয়। এর মধ্যে অর্থের খরচ, সুযোগ ব্যয়, মূলধন ব্যয়, ভবন বা জায়গার ব্যয়, ইউটিলিটি, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কিংবা বিপণন ব্যয় অন্তর্ভূক্ত হবে না।
এ ছাড়া এর সঙ্গে কোনো মুনাফা বা অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা যাবে না। ব্যাংককে এ ব্যয় নির্ধারণের পদ্ধতি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির অনুমোদন নিতে হবে এবং প্রতিবছর তা পর্যালোচনা করতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড কস্ট পদ্ধতিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে তা গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে। ফেরত দেওয়া বাস্তবে সম্ভব না হলে তা চ্যারিটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে।
বিলম্বিত পরিশোধের ক্ষেত্রেও একই দর্শন অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে তিনি নির্দিষ্ট একটি অর্থ দান করার অঙ্গীকার করবেন। এই অর্থ বকেয়া টাকার পরিমাণ বা বিলম্বের সময়ের ওপর নির্ভর করতে পারবে না, ব্যাংকের আয় হিসেবেও গণ্য হবে না এবং আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অর্থাৎ, বিলম্বিত পরিশোধের অর্থ গ্রাহককে সময়মতো পরিশোধে উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু তা ব্যাংকের মুনাফার উৎস হতে পারবে না।
পেমেন্ট ব্যবস্থায় শরিয়াহ পরিপালন
গাইডলাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শরিয়াহ নিয়ন্ত্রণে মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড বা এমসিসি ব্যবহারের নির্দেশনা। এমসিসি-এর মাধ্যমে কোনো মার্চেন্টের ব্যবসার সাধারণ ধরন শনাক্ত করা যায়। ইসলামিক ব্যাংকগুলোকে কার্ড অনুমোদনের পর্যায়েই এমসিসি ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ব্যবসার শ্রেণি-যেমন মদ, জুয়া, প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন, নাইটক্লাব, সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা, প্রচলিত বিমা, ক্যাসিনো, তামাকজাত ব্যবসা এবং শরিয়াহ গভর্ন্যান্স কাঠামোর আওতায় অনুমোদিত অন্যান্য নিষিদ্ধ খাত-নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
কার্ড ব্যবহারের সময় মার্চেন্টের এমসিসি অনুমোদনের অনুরোধের সঙ্গে ব্যাংকের সিস্টেমে আসে। ব্যাংকের প্রযুক্তি ব্যবস্থা তখন সেটিকে শরিয়াহ অনুমোদিত তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লেনদেন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। কোনো এমসিসি নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলে কার্ডধারীর নির্দেশ থাকলেও লেনদেন সম্পন্ন হবে না। অর্থাৎ, শরিয়াহ সম্মতি শুধু চুক্তির পাতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; তা সরাসরি পেমেন্ট অবকাঠামোর অংশ হয়ে উঠছে।
এমসিসি স্ক্রিনিংই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়
তবে এমসিসি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ শরিয়াহসম্মত ব্যয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ এমসিসি মার্চেন্টকে শনাক্ত করে, নির্দিষ্ট পণ্যকে নয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি সুপারমার্কেটে হালাল খাবারের পাশাপাশি মদও বিক্রি হতে পারে। কিন্তু একই এমসিসি -এর কারণে ব্যাংক হয়তো নির্দিষ্ট পণ্যটি কী তা জানতে পারবে না। ফলে মার্চেন্টটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করলে বৈধ লেনদেনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে; আবার অনুমোদন দিলে নিষিদ্ধ পণ্য কেনার সুযোগ থাকতে পারে।
এখানে প্রতিটি ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি (এসএসসি)-এর দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। মিশ্র পণ্য বা সেবা দেওয়া মার্চেন্টের ক্ষেত্রে এমসিসি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণই যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা কি না, গ্রাহককে কীভাবে অবহিত করা হবে এবং অবশিষ্ট ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে-এসব বিষয়ে এসএসসি-কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরও পড়ুন<> মোঃ খায়রুল হাসান লেখা<> ইসলামী ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, গ্রাহকআস্থার অতন্দ্র প্রহরী শরিয়াহ্ সুপারভাইজরি বোর্ড
এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিক লেনদেন পর্যালোচনা, নমুনাভিত্তিক এমসিসি অডিট এবং ব্যতিক্রমী লেনদেনের রিপোর্টিং চালু করা প্রয়োজন। কোনো মার্চেন্ট পরবর্তীতে শরিয়াহসম্মত নয় বলে চিহ্নিত হলে ভবিষ্যৎ লেনদেনের জন্য তাকে ব্লক করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ-বহির্ভূত আয় যথাযথভাবে শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিশোধন করতে হবে।
গ্রাহকদেরও বোঝানো প্রয়োজন যে এমসিসি-এর কারণে কোনো লেনদেন প্রত্যাখ্যাত হলে সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; এটি একটি পরিকল্পিত শরিয়াহ নিয়ন্ত্রণ। বৃহত্তর শিক্ষা হলো—প্রযুক্তি শরিয়াহর নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করতে পারে, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণের সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। সেটি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স।
দায়িত্বশীল ঋণ ও গ্রাহক সুরক্ষা
গাইডলাইনে দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংককে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে, যাচাইকৃত আয়ের ভিত্তিতে সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভোগ বা ঋণগ্রস্ততাকে উৎসাহিত করে এমন বিপণন থেকে বিরত থাকতে হবে।
গ্রাহক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। ব্যাংককে প্রোডাক্ট ডিসক্লোজার শিট-এর মাধ্যমে কার্ডের শরিয়াহ কাঠামো, বিভিন্ন ফি, ফি গণনার পদ্ধতি, নূন্যতম বকেয়ার পরিমান, চার্জ-মুক্ত ঋণ মেয়াদএবং বিলম্বিত পরিশোধের নিয়ম স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ফি, শর্ত বা প্রণোদনায় পরিবর্তন আনলে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে। গাইডলাইনের শর্তসাপেক্ষে গ্রাহককে অন্তত পাঁচটি পূর্ণ কর্মদিবসের অবকাশকাল সময় দিতে হবে। অনুরোধ ছাড়া কার্ড ইস্যু করা যাবে না। কার্ড আপগ্রেড বা ক্রেডিট সীমা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গ্রাহকের স্পষ্ট সম্মতি প্রয়োজন। গ্রাহকের স্টেটমেন্ট নির্ধারিত পরিশোধের তারিখের অন্তত ১৪ দিন আগে পৌঁছাতে হবে। কোনো লেনদেন নিয়ে বিরোধ বা অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে বিতর্কিত অর্থ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক হবে না এবং সেই অর্থের ওপর বিলম্বজনিত কোনো চার্জ আরোপ করা যাবে না।
আদায় প্রক্রিয়াতেও থাকতে হবে শালীনতা। হয়রানি, হুমকি বা গ্রাহকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় অনধিকার হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিরাপত্তা ও ধারাবাহিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্স
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইনে ওটিপি-ভিত্তিক অ্যাক্টিভেশন, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ, ২৪/৭ রিপোর্টিং ও কার্ড ব্লক করার ব্যবস্থা, নির্ধারিত দ্বিস্তরীয় বা দুই-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, লেনদেনের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা, ইএমভি প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট-কার্ড নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির দায়িত্বও শুধু পণ্য অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফি নির্ধারণের পদ্ধতি, এমসিসি-ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা, ইবরা নীতি, চ্যারিটি অ্যাকাউন্ট এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারণামূলক উপকরণ-সবকিছুর ওপর এসএসসি-কে নজরদারি করতে হবে।
এ ছাড়া অন্তত প্রতিবছর একটি শরিয়াহ অডিট পরিচালনা এবং তার সমন্বিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এটি এককালীন শরিয়াহ অনুমোদন থেকে ধারাবাহিক শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
প্রকৃত চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশিকা ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার জন্য একটি বিস্তৃত ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করাই শেষ কথা নয়। এর প্রকৃত পরীক্ষা হবে বাস্তবায়নে। ব্যাংকগুলোকে সঠিক কস্টিং ব্যবস্থা, কার্যকর এমসিসি নিয়ন্ত্রণ, পৃথক চ্যারিটি অ্যাকাউন্ট, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল বিপণন এবং ধারাবাহিক শরিয়াহ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো-শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, প্রযুক্তিবিদ, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা, অডিটর এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে নিয়ন্ত্রক নীতিমালা প্রতিদিনের ব্যাংকিং কার্যক্রমে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়। একটি ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড শুধু প্রচলিত কার্ডের চেয়ে দেখতে আলাদা হলেই চলবে না। এর চুক্তি, আয়-ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, গ্রাহকসেবা এবং গভর্ন্যান্স-সবকিছুতেই একটি ভিন্ন আর্থিক দর্শনের প্রতিফলন থাকতে হবে। তাই প্রকৃত উদ্ভাবন কার্ডটির মধ্যে নয়; কার্ডটির নেপথ্যে থাকা পুরো ব্যবস্থার সততা ও শুদ্ধতায়।
লেখক: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আর্থিক খাতের একজন বিশ্লেষক। ইমেইল: [email protected]
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































