Apan Desh | আপন দেশ

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন-বেকারত্ব

নজরুল ইসলাম মোল্লা

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন-বেকারত্ব

ছবি: এআই জেনারেট

গ্রিক শব্দ ‘পোলিস’ এবং আরবি শব্দ ‘সিয়াসাত’ থেকে রাজনীতির ধারণা এসেছে। মূলত রাজনীতি একটি সেবামূলক প্রক্রিয়া, যা সমাজ বা রাষ্ট্রের হিত বয়ে আনে। আর দুর্বৃত্ত হলো লুটেরা প্রকৃতির মানুষ। সেবামূলক কাজ যখন দস্যুর মুঠোবন্দি হয়, তখন রাজনীতি শব্দটি তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে।

রাজনীতির উদ্দেশ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণপূর্বক ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা। এর উদ্দেশ্য সুশাসন ও সুষ্ঠু আইনের প্রয়োগ করা এবং সুযোগ ও সম্পদের সুষম বণ্টন করা। ক্ষমতার ন্যায়সংগত ব্যবহার, যা সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর।

আর দুর্বৃত্তের উদ্দেশ্য হলো তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কীভাবে লুটতরাজ করে উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে নিজের অথবা নিজের পছন্দের লোকের পেট ভরানো যায়। তাহলে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলাফল অনাকাঙ্ক্ষিত ও কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ধ্বংসাত্মক। বেড়ে যাচ্ছে বেকারত্বসহ নানা অপরাধপ্রবণতা।

বেকারত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন তারা মিল-ফ্যাক্টরিতে ওই দলের দুর্বৃত্তদের একজনকে স্থানীয়ভাবে ক্ষমতা দেয় ফ্যাক্টরি দেখাশোনা করার জন্য। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন থাকে। তাদের সঙ্গে থাকে বড় বড় কর্তাদের লিয়াজোঁও।

এরপর তারা দুপক্ষ মিলে ইচ্ছেমতো লোক ছাঁটাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া চালায়। যারা নেতাদের কোনো না কোনোভাবে খুশি করতে পারে, তারা যে দলের লোকই হোক না কেন, তাদের চাকরি থাকে, প্রমোশন হয়। আর যারা বাটপারি জানে, জানে তোষামোদি, তাদের চাকরি থাকে। আর যারা তা পারে না, তাদের ভাতের ডেকচি শূন্য থাকে। লোক নিয়োগ দেয়া হয় দূরের কাউকে (অফিসারদের আত্মীয়স্বজন), স্থানীয় তরুণদের চাকরি হয় না।

এখানে রাজনৈতিক নেতাদের লাভ কী? ঘুষের টাকা খেতে পারা, অফিসারদের সঙ্গে দহরম-মহরম অক্ষুণ্ন রাখা। নিচে একটি বাস্তব উদাহরণ আলোচনা করা হলো।

আমি ময়মনসিংহ জেলার শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভালুকা উপজেলায় বাস করি। এখানে রয়েছে শত শত ফ্যাক্টরি। অথচ ভালুকার স্থানীয় তরুণদের বুকে বেকারত্বের জগদ্দল পাথর চাপানো। তাদের অনেকেই হতাশায় বেছে নিচ্ছে অন্যায়ের পথ।

ভালুকার মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরি গ্রামে অবস্থিত গ্রীন টেক্সটাইল লিমিটেড। গ্রীন টেক্সটাইল লিমিটেডে (জিটিএল) গত মে মাসে আমেরিকায় রফতানিকৃত মালামালের প্যাকেটে নাকি ছুরি পাওয়া গিয়েছিল। এ অজুহাতে অনেক শ্রমিকের চাকরি খেয়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন <<>> সৌদি মুলুকিয়ত রাজতন্ত্রের বিচারহীনতা অভিবাসী নির্যাতন-ঐতিহাসিক দ্বিমুখী নীতি

তার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় ওয়ারহাউসের বোঝা বহনকারী কিছু শ্রমিককে এবং আরও কিছু নিম্নমানের শ্রমিককে।

কী অবাক কাণ্ড! চাকরি যায়নি স্টোর অফিসারের, যায়নি স্ক্যানারের, যায়নি মেটাল ডিটেক্টর পরিচালনায় নিয়োজিত অফিসারের। চাকরি গেল খেটে খাওয়া অসহায় শ্রমিকদের।

কেউ আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন- শ্রমিকরা কি অপরাধী নয়? আমি বলব- না। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে মালামাল বের হওয়ার আগে কম্পিউটার স্ক্যানিং করা হয়, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তারপর মালামাল গাড়িতে লোড করা হয়। রফতানিকৃত মালামাল এতগুলো স্তর বোঝা বহনকারী শ্রমিকদের কোনো গাফিলতিতে পেরিয়ে যায়নি, তা পাগলেও বুঝে।

বুঝে না কেবল বড় বড় রাঘববোয়ালরা, অর্থাৎ বড় বড় কর্মকর্তারা। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা। ওরা বুঝবেও না। ওরা বুঝতে চাইবে না। ওরা বুঝলে স্থানীয় তরুণরা কাজ পাবে। তাদের নেতারা তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

এ ধরনের বিবেকহীন বিচারব্যবস্থার শিকার হয়ে কেউ যদি চরম ক্ষোভে অন্যায়ের পথ বেছে নেয়, তার দায়ভার কে নেবে? অসংখ্য পরিবারের চাপা কষ্ট কীভাবে দূর হবে?

গরিবের জন্য এ সোনার বাংলাদেশে যেকোনো সরকারের শাসনামলে সুষ্ঠু বিচার হয় না, হবেও না। আমরা ব্যর্থ অভিভাবকরা হাহুতাশে বুক চাপড়ে চাপা কান্নায় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখব। তারপরও আমি আশাবাদী যে, বর্তমান সরকারের মাননীয় শিল্পমন্ত্রী ও ভালুকার এমপি মহোদয় এ অপকর্ম দূর করে দেশের উন্নয়নে অসহায় গরিব তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়