Apan Desh | আপন দেশ

আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১০:০২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ

ফাইল ছবি

আজ ১৭ অক্টোবর (শনিবার), আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর এদিনে দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও মানুষের অসমতা দূর করাই দিবসটির মূল লক্ষ্য। এ বছরের বিশেষ প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’। 

১৯৯২ সালে জাতিসংঘ দিবসটি ঘোষণা করে। মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের ভিত্তি হিসেবে পর্যাপ্ত আবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২৮০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অপর্যাপ্ত আবাসন সংকটে রয়েছে। এ সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে আগে থেকেই দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার মানুষদের।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। করোনা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে ৮০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। এর মধ্যে গত এক বছরেই দরিদ্র হয়েছে ২১ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধির মন্থরতা, শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর যে ধারা ছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে আয়বৈষম্য। ফলে অর্থনীতির আকার বাড়লেও তার সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

আরও পড়ুন<<>>বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর দারিদ্র্য ও সমতা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতি, দুর্বল শ্রমবাজার ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন বলছে, গত অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে যুক্ত হয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, আয় সীমিত অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। একপর্যায়ে খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হয় তারা। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার নতুন করে সংকটে পড়ছে। নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি এসব এলাকায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি। অসুস্থতা, কর্মহীনতা কিংবা দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো গেলে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর আবার দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়