Apan Desh | আপন দেশ

পাবনায় ধর্ষকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার পর লুট হচ্ছে মাটি

পাবনা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:০২, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

পাবনায় ধর্ষকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার পর লুট হচ্ছে মাটি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এবার ওই বাড়ির মাটি লুট করে নিচ্ছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে।

বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বজনরা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ভাঙার কাজ অব্যহত রয়েছে।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে বাড়ি ছিল তা বোঝার কোনো উপায় নেই। বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচে ফাউন্ডেশনের রড কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

বাড়ির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া শ্রমিক সলিম প্রামানিক জানান, মোস্তফা যে পাপ করেছে তার শাস্তি হিসেবে তার বাড়ি আমরা রাখিনি। এখন তার বাড়ির মাটি নিয়ে আমরা রাস্তায় দিচ্ছি। বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি। আমরা এখানে পুকুর তৈরি করব।

বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালিও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে, ধর্ষকের পরিণতি কী হয় সেটি বোঝানোর জন্য।

এদিকে বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল না করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।

শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, এখনো চার্জশিট দেয়া হয়নি। এতদিনে চার্জশিট দিয়ে দেয়া দরকার ছিল। এটা প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার দাবি জানান তিনি। 

আরও পড়ুন<<>>রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন বায়রার অপেক্ষায়

শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হচ্ছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা। সবার কাছে আমাদের একটাই দাবি, একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে না যায়। পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের  গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আব্দুস সালাম বলেন, মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাসপাতালে চলে আসছে শুনেছি। দ্রুতই আমরা চার্জশিট দিয়ে দেব। শিশু কলি ধর্ষণ হত্যা মামলায় কোনো গাফিলতি করার সুযোগ নেই।

‎উল্লেখ্য, গত ০৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
‎
‎এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ০৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।
‎
‎পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ বা হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আলামত ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসলেই পুর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়