Apan Desh | আপন দেশ

বিশ্ব মেনোপজ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০৯:১৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব মেনোপজ দিবস আজ

ছবি: আপন দেশ

আজ ১৮ অক্টোবর (রোববার), বিশ্ব মেনোপজ দিবস। নারীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, মেনোপজ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিবছর এদিনে দিবসটি পালিত হয়। মেনোপজ নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণা দূর করাও এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ইন্টারন্যাশনাল মেনোপজ সোসাইটি ২০০৯ সালে দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা’। এবারের লক্ষ্য মেনোপজকালীন পেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথাকে গুরুত্ব দেয়া, সঠিক রোগনির্ণয় নিশ্চিত করা এবং প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার প্রসার ঘটানো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজ ঘটে। ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং ইস্ট্রোজেনসহ প্রজনন হরমোনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার ফলে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। অন্য কোনো শারীরিক কারণ না থাকলে টানা ১২ মাস মাসিক না হওয়াকে স্বাভাবিক মেনোপজ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কোনো রোগ নয়; বরং জীবনের স্বাভাবিক পর্যায়। তবে এ সময় হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎ গরম লাগা, রাতে ঘাম, অনিদ্রা, মেজাজের পরিবর্তন, উদ্বেগ, বিষণœতা, ত্বক ও যোনিপথের শুষ্কতা এবং হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিতে পারে। সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ এক রকম হয় না।

মেনোপজের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি অনেকের ক্ষেত্রে হট ফ্ল্যাশ, রাতের ঘাম ও অন্যান্য উপসর্গ কমাতে কার্যকর। তবে বয়স, চিকিৎসার ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে এ চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়। হরমোন ব্যবহার উপযুক্ত না হলে নির্দিষ্ট অ-হরমোনজনিত ওষুধ, কাউন্সেলিং এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন সহায়ক হতে পারে। যোনিপথের শুষ্কতায় উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার, লুব্রিকেন্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শে স্থানীয় চিকিৎসা নেয়া যায়।

হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, প্রয়োজন অনুযায়ী হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি। ২০২৬ সালে নেচার মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণায় মেনোপজ-সম্পর্কিত রক্তের প্রোটিনের পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বার্ধক্য ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। 

একই বছর প্রকাশিত আরেক গবেষণায় মেনোপজের সময় হাড়, যকৃৎ, বৃক্ক ও রক্তের চর্বিসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রমাণ উঠে এসেছে। এসব ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো থেকে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। ফেজোলিনেট্যান্ট-এর মতো অ-হরমোনজনিত চিকিৎসাও হট ফ্ল্যাশ নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নতুন ওষুধ ও টেস্টোস্টেরন থেরাপির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রমাণ এবং অনুমোদনের অবস্থা বিবেচনা করেই চিকিৎসা নিতে হবে।

আরও পড়ুন<<>>আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ

সুষম খাদ্য মেনোপজ-পরবর্তী সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি। দুধ, দই, ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, ডাল, সয়াবিন, বাদাম, তিসি ও তাজা ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা, উপযোগী শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম হাড় ও হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন, ঝাল খাবার বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবারে উপসর্গ বাড়লে তা কমানো যেতে পারে। সবার জন্য একই খাদ্যনিষেধ প্রযোজ্য নয়।

হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ব্যাঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ধ্যান, গভীর শ্বাসের অনুশীলন, পছন্দের কাজে সময় দেয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। প্রয়োজনে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের সহায়তা এবং কগনিটিভ বিহেভিয়োরাল থেরাপি উপকারী হতে পারে। উপসর্গ দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষত, মেনোপজের পর আবার রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

মেনোপজ নিয়ে লজ্জা, কুসংস্কার ও নীরবতা দূর করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের উচিত নারীর শারীরিক অস্বস্তি ও মেজাজের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সহমর্মিতা দেখানো, গৃহস্থালির কাজ ভাগ করে নেয়া এবং বিশ্রাম ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা। কর্মক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি, আরামদায়ক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যকর সহায়তা হতে পারে।

মেনোপজ নারীর জীবনের সমাপ্তি নয়, নতুন এক অধ্যায়। এ সময় সঠিক তথ্য, সময়োপযোগী চিকিৎসা, পুষ্টি, মানসিক সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রজঃনিবৃত্তি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক- মেনোপজ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার যথাযথ মূল্যায়ন, নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং বয়স নির্বিশেষে প্রতিটি নারীর মর্যাদা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা।

বিশ্ব মেনোপজ দিবসের মূল বার্তা হলো- মেনোপজ নিয়ে লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও সহমর্মিতা। পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের এই পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়