ছবি : সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গভীর রাতে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় বাহিনীটি।
অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত এবং ধ্বংস করার পাশাপাশি ওই এলাকায় বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার কাজও চলছে।
পশ্চিম তীরে বিভিন্নভাবে দমন-পীড়ন চললেও এ ধরনের অভিযান আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলে পশ্চিম তীরও গাজার মতো পরিণতির দিকে দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, বাহিনীটির সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, সীমান্ত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যরা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্যবস্তুতে তল্লাশি চালানো, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো শনাক্ত ও ধ্বংস করা এবং কয়েক ডজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইডিএফের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, অভিযানটি সুনির্দিষ্ট এবং যে এলাকা থেকে সন্ত্রাসীরা তৎপরতা চালিয়েছিল, সেখানেই সীমাবদ্ধ। কয়েক দিন ধরে অভিযান চলতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিযান চলা এলাকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা তল্লাশির পর নির্ধারিত তিনটি পথ দিয়ে বের হতে পারবেন। তবে তল্লাশির সময় কারও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন<<>>ইরানে আবারও সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
এর আগে শুক্রবার সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনের প্রবেশপথের একটি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত দুই সেনাকে গুলি করে হত্যাকারী দুই বন্দুকধারীর বাড়ি সম্ভাব্যভাবে গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। একই সঙ্গে হেবরন এবং আশপাশের ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে আইডিএফ। এ ছাড়া হামলার এলাকায় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে- এমন ‘অবৈধ স্থাপনা’ ভেঙে ফেলার কাজও চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে সশস্ত্র সেনাদের ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ধাক্কা দিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করতে দেখা যায়। এর মধ্যে তাদের জিনিসপত্র দ্রুত ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখ হামলার ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি বলেন, হামলার জবাবে অবৈধ স্থাপনা ধ্বংসের ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যার উদ্দেশ্য হলো ভীতি সৃষ্টি করা এবং এ গুরুতর হামলার জন্য উপযুক্ত মূল্য আদায় করা।
তবে মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম এসব ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহবান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ইসরায়েলি নেতারা প্রকাশ্যে সম্মিলিত শাস্তির পরিকল্পনা এবং এমন কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দিচ্ছেন, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































