ছবি: আপন দেশ
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। টাঙ্গাইলজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা ছিল উৎসবে মাতোয়ারা।
সকাল থেকেই শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিসি লেক ও এসপি পার্কে মানুষের ঢল নামে। এছাড়া মণতলা, সোলপার্ক ও পৌর উদ্যানে ছিল সব বয়সের মানুষের ভিড়। তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী ও লাল রঙের পোশাকে সেজে উৎসবে যোগ দেন। অনেকেই প্রিয় মানুষের হাতে লাল গোলাপ তুলে দিয়ে ভালোবাসা বিনিময় করেন। শুধু যুগলরাই নয়, পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের নিয়ে অনেকেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে এদিন পা ফেলার জায়গা ছিল না। দেলদুয়ারের মহেরা জমিদার বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। মধুপুরের জাতীয় উদ্যান ও ধনবাড়ীর নওয়াব প্যালেসে ছিল সাজ সাজ রব। গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যমুনা নদীর পাথরঘাট ও যমুনা রিসোর্টে মানুষ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে ভিড় জমান। নদীপাড়ে অসংখ্য মানুষকে আড্ডায় ও ছবি তোলায় মত্ত থাকতে দেখা যায়।
দিবসটি ঘিরে শহরের ফুলের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা বেশি থাকায় চড়া দামে বিক্রি হয়েছে ফুল। একটি লাল গোলাপের দাম মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, রজনীগন্ধা, লাল গোলাপ ও গ্ল্যাডিওলাসের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। শহরের নিরালা মোড় ও ভিক্টোরিয়া রোডের দোকানগুলো বাহারি ফুলে সাজানো হয়েছিল।

বিকালে শহরের রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোতে ছিল বিশেষ ভিড়। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অনেক রেস্তোরাঁ 'কাপল অফার' ও বিশেষ প্যাকেজ প্রদান করে। কফি আড্ডা ও ডিনারের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন টাঙ্গাইলবাসী। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বসন্ত বরণে গানের আসর ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করে।
উৎসবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ছিল সতর্ক। বিনোদন কেন্দ্র ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































