Apan Desh | আপন দেশ

যে কারণে দেরি হতে পারে নির্বাচনের ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:৫৬, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যে কারণে দেরি হতে পারে নির্বাচনের ফল প্রকাশ

ছবি: আপন দেশ

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম। তবে এবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। এর কারণ একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট আয়োজন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হবে ভোটযুদ্ধ। মোট ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানকার ভোট স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২০২৮ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। এছাড়া ২০ জন নারী স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করছেন।

এবারের নির্বাচনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে ভোটারদের মতামত নিচ্ছে। এটি হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ গণভোট। এর জন্য আলাদা ব্যালট পেপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটাররা রঙিন ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ঘরে সিল দেবেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে গণনা শেষ হবে। এ বার দুটো ব্যালটে একসঙ্গে ভোট দেয়া হবে। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের গণনা রয়েছে। ফলে গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এ জিনিসটা আমাদের সকলকে একটু বিবেচনায় রাখতে হবে। কেন্দ্রের গণনা আগে হয়ে গেলেও রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালটের গণনায় সময় লাগবে। একজন রিটার্নিং অফিসারের কাছে একাধিক আসন থাকলে আরও বেশি সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব ভোটের ফল প্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর কমিশন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ভোট গণনায় এবার কিছুটা দেরি হতে পারে। অনেক সময় ফল প্রকাশে দেরি হলে গুজব ছড়ায়। তাই আগে থেকেই বিষয়টি জানিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, সঙ্গে গণভোটও হচ্ছে। ফলে দুটি ভোট গণনাই একসঙ্গে শুরু হবে। আমরা চাই খুব ভালোভাবে ভোট গণনা হোক।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে একসঙ্গে এই দুটি আয়োজন এবারই প্রথম। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দুটি ভোটের ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। একটির ফল আগে ও অন্যটির পরে দিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল অবাধ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার। সে লক্ষ্যেই আয়োজিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

ইসি জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব নির্ভুল ফলাফল প্রকাশে তারা বদ্ধপরিকর। তবে নাগরিকদের ধৈর্য ধরার আহবান জানানো হয়েছে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়