Apan Desh | আপন দেশ

১১ দলের লংমার্চে যাননি নাহিদ, জামায়াতের সঙ্গে দুরত্ব?

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:২২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:২২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

১১ দলের লংমার্চে যাননি নাহিদ, জামায়াতের সঙ্গে দুরত্ব?

ফাইল ছবি

তৃতীয় দফা লংমার্চে যাত্রা শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। শনিবার সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররকম মসজিদের দক্ষিণ গেট সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লং মার্চের গাড়ি বহর রওনা দেয়। তার আগে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দরকষাকষি থেকে জোটের শরিক জামায়াতের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে এনসিপির। এরমধ্যেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজয়ের পরও অনিয়ম নিয়ে শক্ত অবস্থান না নেয়ায় দলটির প্রতি ক্ষুব্ধ এনসিপি। এর বাইরেও বেশকিছু বিষয়ে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে দুই দলের। এ কারণেই অভিমান থেকে ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লং মার্চে যোগ দেননি নাহিদ। 

এ কর্মসূচি ঘিরে তাদের তেমন স্বতঃস্ফূর্ততাও নেই বলে জানা গেছে।

বায়তুল মোকাররকম মসজিদের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিলেন জামায়াতের আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঞ্চে ক্রমানুসারে তার পরই অবস্থান ছিল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের। তারপরই ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা। তবে জামায়াত আমিরের পরপরই এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য চেয়ার খালি রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি।

তার পরিবর্তে উপস্থিত হন এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সার্জিস আলম। তবে তারা কোনও বক্তব্য দেননি।

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকেও এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের কোনও ছবি পোস্ট করা হয়নি। যদিও তিন নেতা ঢাকার বাইরে পথসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>কানেক্টিভিটির নামে দেশ ইজারা দেয়া চলবে না: জামায়াত আমীর

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ দলীয় ঐক্যের দুই শরিক জামায়াত ও এনসিপির একাধিক নেতা জানান, দুই দলের মূল টানাপোড়েন ও দূরত্ব শুরু হয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দরকষাকষি থেকে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ পরিস্থিতির শুরু হয়। তখন ঘরোয়া বৈঠকে সিটি নির্বাচনে কমপক্ষে তিনটিতে ছাড় চেয়েছে এনসিপি। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটিতে একটিতে অনড় থাকে দলটি। কিন্তু জামায়াত সাফ জানিয়ে দিয়েছে ঢাকার কোনও সিটিতে তারা শরিকদের ছাড় দেবে না। এ ক্ষেত্রে তারা কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে এনসিপিকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এনসিপি তা মানতে পারেনি। তাই সে বৈঠক থেকে বের হয়ে যায়। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা বিরাজ করে। এ থেকে গত এক মাস শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেননি নাহিদ ইসলাম।

অন্যদিকে, গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের পর অনিয়ম নিয়ে জামায়াতের প্রতিবাদ না করায় ক্ষুব্দ এনসিপি। পাশাপাশি বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর হাত থেকে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর হাসিমুখে মিষ্টি খাওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি এনসিপি।

এ নিয়ে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) শাহবাগে দলের গণবিক্ষোভে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এনসিপির সূত্র জানিয়েছে, এসব কারণেই মূলত নাহিদ ইসলাম ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব বজায় রাখছেন। 

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়