ছবি: আপন দেশ
প্রতি ইউনিট মাত্র ৪.২৫ টাকায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫০ কলেজ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৌলকূপায় ১৩২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের সুযোগ রযেছে।
বছরে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ইউনিট এবং ২০ বছরে ১২০ গিগাওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এতে করে বছরে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০২ টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির একটি টিমের গবেষণায় এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত সৌর বিদ্যুতের উন্নয়ন বিষয়ক নাগরিক সংলাপে ওই রিপোর্ট তুলে ধরা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ছাদ ব্যবহার করে ৫২.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার সুযোগ রয়েছে। ২৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আসবে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিস্তারিত খরচ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। এতে বলা হয়েছে, কয়লা এবং তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এই বিদ্যুতের সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে, ধারাবাহিকভাবে একই দামে পাওয়া যাবে। সুযোগ রয়েছে দাম কমে যাওয়ার।
গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রভাষক সিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, যেসব সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে রয়েছে তার সর্বোচ্চ খরচ বিবেচনায় নিয়ে এ মূল্যকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ১৫০ কলেজের ছাদ ব্যবহার করে ৫১.১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। বছরে প্রায় ৭ কোটি ১৪ লাখ ইউনিটের ওপরে উৎপাদন হবে। ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণসহ ইউনিট প্রতি খরচ পড়বে ৪.১৫ টাকা।
অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ২৪.৬ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ১৩৫.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২০ বছরে বিদ্যুতের দাম দাঁড়াবে ৫১৬ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন<<>>রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাবে নভেম্বরেই
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন বিদ্যুৎ বিভাগ সচিব মিরানা মাহরুখ। তিনি বলেন, গবেষণার কাজটি খুবই সময়োপযোগী হয়েছে। আমরা একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, সরকার সৌর বিদ্যুতের বিষয়ে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে যেসব প্রস্তাব এবং দাবি এসেছে সবগুলো বিবেচনায় নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়াসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আরও যদি কোন বিষয় থেকে থাকে সামনে আনলে অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।
মার্চেন্ট বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭.৫০ টাকা নির্ধারণ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বিষয়টি এ মুহূর্তে খুবই যৌক্তিক হয়েছে। তবে যেহেতু অনেক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করছি, ডিউটি কমানো হচ্ছে, ভবিষ্যতে এর দাম কমে আসবে।
ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, ছাদভিক্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৪.৫০ টাকা বলা যায়। এ বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, সোলার আলোর জন্য কোন দাম দিতে হচ্ছে না। সে কারণে কোথায় যুদ্ধ হলো তাতে দামে হেরফের হবে না। সৌর বিদ্যুতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি আমাদের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। সঞ্চয় করে যদি রাখতেই হয় তাহলে ভোক্তা রাখবে। সরকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্যাপেক্স মডেলে সৌর বিদ্যুৎ করতে চায়, এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। তাদের চেয়ারটেবিলের ধুলা পরিষ্কার করার লোকবল থাকে না। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করবে কে!
ওমেরা এলপিজির সিইও মাসুদুর রহিম বলেন, ছাদভিক্তিক সৌর বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এর রক্ষণাবেক্ষণ। স্থাপনা নিজের হলে এক রকম, আর অন্যের ভবনের ছাদে করছি তখন সেগুলো দেখাশুনা করা কঠিন। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার-ক্যাবল চুরি হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আরেকজনের স্থাপনায় আমার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিভাবে রক্ষা হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা, আমি যাকে বিদ্যুৎ দিচ্ছি তিনি যদি বিল না দেন, তাহলে আমার বিনিয়োগ আসবে কোথা থেকে।
অন্যান্য উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিনিয়োগ নিরাপদ করার ফর্মূলা বের করতে না পারলে সৌরবিদ্যুতের বেশি অগ্রগতি আশা করা কঠিন। সরকার অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে এখানে তাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্যাবের গবেষণা সমন্বয়ক শুভ কিবরিয়া।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































